advertisement
আপনি পড়ছেন

ভয়াল বিভীষিকার হিরোশিমা দিবস আজ শনিবার (৬ আগস্ট)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্রান্তিলগ্নে ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাপানের হিরোশিমা শহরে বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র তিনদিনের মাথায় ৯ আগস্ট ফের নাগাসাকি শহরে আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে দেশটি।

hiroshima dangerous sightহিরোশিমা শহর মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল সেদিন

দুই শহরে হামলায় সাড়ে তিন লাখ নিরীহ, ঘুমন্ত, অসহায় শিশু-নারী-পুরুষ ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়াও চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে কয়েক লাখ মানুষ।

পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম এই হামলার ৭৭তম বার্ষিকী পালন করছে জাপানসহ বিশ্বের যুদ্ধবিরোধী মানুষ। দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার সকালেই হিরোশিমায় পিস মেমোরিয়াল পার্কের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা-স্মরণে জড়ো হন হাজারো মানুষ। এবার ৩ হাজার জাপানি নাগরিককে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে আগের দুই বছর সীমিত আকারে দিবসটি পালিত হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে বিশ্বের ৯৯টি দেশের অতিথিরা অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। দীর্ঘ ১২ বছরের মাথায় কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব হিরোশিমা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন।

হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে হামলার মধ্য দিয়ে মূলত সমাপ্ত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানি সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হিরোশিমা শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ওই বোমাটির নাম রেখেছিল ‘লিটল বয়’। বোমাটির বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক দুই কিলোমিটার এলাকার সব ধরনের স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশে যায়। চোখের নিমেষে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় পুরো শহর। নিরীহ ঘুমন্ত মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হয়ে যায় মৃত্যুপুরীর বাসিন্দা। হিরোশিমায় তখনই মারা যায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ।

এরপর ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ২ মিনিটে মার্কিনবাহিনী ‘ফ্যাটম্যান’ নামে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে নাগাসাকি শহরে। হিরোশিমার মতোই পুরো শহরটি পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হয়। মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে বিস্ফোরিত ফ্যাটম্যান নিমেষেই কেড়ে নেয় ৭৪ হাজার তাজা প্রাণ।

বোমার তেজস্ক্রীয়তায় আক্রান্ত হয়ে দুই শহরে পরবর্তীতে মারা যায় আরও সোয়া লাখ লোক। সব মিলিয়ে ১৯৫০ সাল পর্যন্তই মারা যায় সাড়ে তিন লাখ। নিহতের সর্বশেষ সরকারি তালিকায় নাম রয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৭ জনের।

স্বজন হারানোর বেদনায় এখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাপানবাসী। এখনও দুই শহরে বোমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয় বিকলাঙ্গ শিশু, ক্যান্সারসহ নানা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় মানুষ। প্রায় আট দশকেও ভয়াল সেই দিনের কথা ভোলেনি জাপান।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর