advertisement
আপনি পড়ছেন

গাজা উপত্যকায় চলমান সহিংসতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে রাশিয়া। দেশটি সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

gaza shells tlsd বিমান হামলার পাশাপাশি গাজায় ভারি গোলাবর্ণ করছে ইসরায়েল

ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ টেলিভিশন জানিয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিরোধে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চলতি দফায় সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্রকে দায়ী করেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, সহিংসতা বৃদ্ধি ঠেকানো ও অবিলম্বে টেকসই যুদ্ধবিরতি শুরুর আহ্বান জানাচ্ছে রাশিয়া।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানতয বলেছেন, গাজায় চরমপন্থী সংগঠন ইসলামিক জিহাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে চায় ইসরায়েল। অভিযানের ব্যাপকতা আরও বাড়বে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা এএফপিকে বলেছেন, গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান এক সপ্তাহ চলবে। এজন্য ইসরায়েলের রিজার্ভ ফোর্সের ২৫ হাজার সৈন্যকে তলব করা হয়েছে।

জানা গেছে, মিশরের একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল ফিলিস্তিনি পক্ষগুলোর সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে ইসরায়েলের প্রতি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। ইসরায়েল সে প্রস্তাব নাকচ করেছে।

দ্বিতীয় দিনের মতো আজও বিমান হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। বায়ত হানুন, খান ইউনুসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি বসতি লক্ষ্য করে এসব হামলায় এ পর্যন্ত শিশু, বৃদ্ধসহ কমপক্ষে ১৪ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মোহাম্মদ সামিরি জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। এভাবে আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকলে গাজা উপত্যকার হাসপাতালগুলো তিনদিনের মধ্যে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।

মানবাধিকার কর্মী হায়া ইসমাইল টুইটারে লেখেছেন, পাঁচদিন আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ গাজায় যাতায়াতের সবগুলো ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। এতে করে জ্বালানি, ওষুধসহ জরুরি পণ্যের সংকট আগের চেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছিল। এ অবস্থায় ইসরায়েল বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করায় গাজা উপত্যকায় চিকিৎসা অবকাঠামো ও দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থা ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ইসরায়েলের দ্বিতীয় দিনের হামলায় গাজায় বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন মাটিতে মিশে গেছে। বহুতল ভবন ধ্বংসে ইসরায়েলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি জিবিইউ-৩১ জেডিএএমসহ বিভিন্ন ধরনের বোমা ব্যবহার করছে।

চলতি দফায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের ডানপন্থী, বামপন্থী সবগুলো সংগঠন একযোগে অবস্থান নিয়েছে। ইসলামিক জিহাদ ও আল কুদস ব্রিগেডের পাশাপাশি মাওবাদী শহীদ ওমর আল-কাসিম ব্রিগেড, মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পপুলার ফ্রন্ট ফর লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) ইসরায়েলে রকেট হামলায় অংশ নিয়েছে।

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ফিলিস্তিনি রক্ত যখন ঝরে তখন রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক ভেদাভেদ থাকে না। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রত্যাঘাতের সব বিকল্প হামাস খোলা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া গাজা উপতক্যায় সক্রিয় ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে লেবাননের রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহ মুভমেন্ট।

ইসরায়েলি সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গাজা থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলে একশর বেশি রকেট ছোঁড়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ রকেট ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাধাপ্রপ্ত হয়েছে। সেদরত এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ফিলিস্তিনি রকেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ভবনের অধিবাসীরা বম্ব শেল্টারে থাকায় কোনো হতাহত হয়নি।

রকেট হামলার আশঙ্কায় আশকেলন, সেদরত, শার নেগেভ ও তেল আবিবে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে ফিলিস্তিনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর