advertisement
আপনি পড়ছেন

ঠিক যেন প্রথম ওয়ানডের সাজানো চিত্রনাট্য। অমিল খুঁজে বের করাটাই কঠিন। শক্তিশালী সংগ্রহ নিয়েও ফের তা আগলে রাখতে ব্যর্থ হলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ছন্নছাড়া বোলিংয়ে আগের ম্যাচের হতাশার পুনরাবৃত্তিই ঘটল হারারেতে। আরো একটা রোমাঞ্চকর রান তাড়ার সফল গল্প লিখল জিম্বাবুয়ে। আশ্চর্য্যজনকভাবে আজ রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ হেরেছে সেই ৫ উইকেটের ব্যবধানে।

sikandar raza applauds regis chakabva on registering a fifty

দুটো ম্যাচেই ‘পরিচিত’ যমদূত সেই সিকান্দার রাজা। পার্থক্য বলতে তার সঙ্গী। ইন্নোসেন্ট কায়ার জায়গায় এবার সেঞ্চুরিয়ান রেজিস চাকাবা। রাজা-চাকাবার দারুণ ব্যাটিংয়ে ২৯০ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জটাকে হেলায়-ফেলায় জয় করল জিম্বাবুয়ে। হারারেতে টানা দুই হারে ৯ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ। প্রিয় সংস্করণে টাইগাররা এখন হোয়াইটওয়াশের মুখে। বুধবার একই ভেন্যুতে মান বাঁচাতে লড়বেন তামিম ইকবাল অ্যান্ড কোং।

নিখাদ ব্যাটিং উইকেটে যথারীতি এদিনও বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। অতৃপ্তি বলতে তিন শ’র গণ্ডি ছুঁতে না পারা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবালের ফিফটি ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর দৃঢ়তায় বোলাররা পেয়েছে পায়ের তলার মাটি। যা ধীরে ধীরে সরে যায় রাজা-চাকাবার চার-ছক্কার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। ২০১ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়েকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দিলেন তারা। চাকাবাকে ফেরানো গেলেও রাজাকে পাঠানো যায়নি সাজঘরে।

এমনিতেই প্রথম ম্যাচ হেরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে দলে ইনজুরির মিছিল। দুই বিভাগের সেরা দুই অস্ত্র মোস্তাফিজুর রহমান ও লিটন দাসকে হারানোর ধাক্কাটা সামাল দেওয়া যে কঠিন হবে সেটা অনুমিতই ছিল।

দুটির বদলে বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আনল তিনটি। জিম্বাবুয়ে জয়ের ম্যাচের কম্বিনেশন ভেঙে পরিবর্তন এনেছে আরো দুটি বেশি। তাদের ব্যাটিং লাইন আপেও ছিল অদল-বদল। ওপেনার চাকাবাকে পাঠানো হলো ছয় নম্বরে। সেখানেই এলো সাফল্য। তবে বল হাতে ৩ উইকেট আর অজেয় সেঞ্চুরিতে অবধারিতভাবইে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রাজা।

এই ম্যাচেও যথারীতি বল হাতে উড়ন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ২৭ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ের ৩ উইকেট তুলে নেয় টাইগাররা। পরপর দুই ওভারে ২ উইকেট নেন ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরা পেসার হাসান মাহমুদ। পরে মেহেদি হাসান মিরাজের আঘাত। দলীয় ফিফটি ছোঁয়ার আগে স্বাগতিকদের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান টাডিওয়ানাসে মারুমানি। ২৫ রানে তার শিকার তাইজুল ইসলাম।

শুরুর ছন্দটা ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। প্রায় ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লড়াই শুরু করেন রাজা ও চাকাবা। দুশো ছাড়ানো জুটি গড়ার পথে দুজনই শুষে নিলেন টাইগার বোলারদের সবটুকু নির্যাস। অবশেষে মিরাজের হাত ধরে ব্রেক থ্রু। ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে।

১০২ রানে ফেরেন চাকাবা। ৭৫ বলের ইনিংসটা তিনি গড়েন ১০ ছক্কা ও দুই চারে। রাজা অবশ্য স্বভাবতই অপরাজিত থাকলেন। ১২৭ বলে আট চার ও চার ছক্কায় ১১৭ রানের ইনিংস খেলে বীরদর্পে ২২ গজ ছাড়লেন তিনি। শেষ দিকে ১৬ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় টনি মুনিয়োঙ্গা ক্যামিও যে ইনিংসটা খেললেন তাতে ম্যাচের স্থায়িত্ব আরো কমে আসে। স্বাগতিকরা সিরিজ জয়ের উৎসবে মেতে ওঠে ১৫ বল বাকি থাকতেই।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ। বড় সংগ্রহের নায়ক মাহমুদউল্লাহ। শুরুর দিকটায় মন্থর ব্যাটিং না করলে হয়তো ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিটাও পেতে পারতেন তিনি। ৮৪ বলে তিনটি করে চার-ছক্কায় ৮০ রানে অজেয় থাকলেন মাহমুদউল্লাহ। তার সঙ্গী আফিফ ফেরেন ৪১ বলে ৪১ রান তুলে। তবে বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক তামিম। ৪৫ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ৫০ রানে বিদায় নেন তিনি।

ফিফটির আভাস ছিল টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটেও। পারেননি একজনও। ২৫ বলে কুড়ি রান তুলে বিজয় পা দিলেন রান আউটের ফাঁদে। ৩৮ রান তুলতে নাজমুল হোসেন শান্ত খরচ করেছেন ৫৫ বল। ১২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটই তার সর্বোচ্চ। ৩১ বলে ২৫ রানে বিদায় নেন মুশফিক। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ-আফিফ ঝড়ে ১০ ওভারে ৮৪ রান করে বাংলাদেশ। কিন্তু বিবর্ণ বোলিংয়ে বৃথাই গেল ব্যাটসম্যানদের জয়ের প্রচেষ্টা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভার, ২৯০/৯
জিম্বাবুয়ে: ৪৭.৩ ওভার, ২৯১/৫
ফল: জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে)
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ে ২-০তে এগিয়ে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর