advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনে পারমাণবিক সন্ত্রাস চালাচ্ছে রাশিয়া। ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিঝিয়ায় হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে জেলেনস্কি এ কথা বলেন। তবে মস্কো এই হামলার জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকেই দায়ী করেছে। খবর আল জাজিরা।

ukraines president zelenskyyইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি

কিয়েভ অভিযোগ করে, রাশিয়ার গোলাবর্ষণ জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ লাইনে আঘাত হানে এবং তিনটি বিকিরণ সেন্সর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়ান বাহিনীর টানা দুদিনের মধ্যে হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেড়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক টুইট বার্তায় বলেন, পারমাণবিক সন্ত্রাসের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। একই সাথে রাশিয়ান পারমাণবিক শিল্প এবং পারমাণবিক জ্বালানির ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দরকার।

zaporizhzhia power plantজাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

এদিকে রাশিয়া দাবি করছে, এ এলাকায় তারা এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এলাকাটিতে এখন ইউক্রেনই হামলা চালিয়েছে। একাধিক রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়। তাদের হামলায় একটি প্রশাসনিক ভবন এবং কাছাকাছি একটি এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইউরোপের মধ্যে বৃহত্তম। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চের শুরুতেই প্ল্যান্টটি দখল করে। ইউক্রেনের পারমাণবিক সংস্থা এনারগোঅ্যাটম বলছে, গত শনিবার রাশিয়ান রকেট একটি স্টোরেজ প্রকল্পে আঘাত হানে, যেখানে পারমাণবিক জ্বালানিসহ ১৭৪টি চুল্লী রাখা হয়েছিল। এছাড়া ওই হামলায় প্রশাসনিক ভবন এবং স্টোরেজ প্রকল্প সংলগ্ন অঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি এ প্ল্যান্টে হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএইএ বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে জরুরিভাবে প্ল্যান্টটি মূল্যায়ন ও সুরক্ষার জন্য প্ল্যান্ট পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।

গ্রসি বলেন, আমি ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এটি ইউক্রেন এবং এর বাইরের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন সব সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য এবং এগুলো যে কোনো মূল্যে এড়ানো উচিত।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ তারিক রউফ বলেন, আমরা সত্যিই জানি না জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিস্থিতি এখন কী রকম? কারণ রাশিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দখল করেছে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য। এ অবস্থায় কেন রাশিয়ানরা সেখানে গোলাগুলি চালাবে যখন তাদের সেখানে সৈন্য এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ থাকবে? আবার কেন ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সেখানে গুলি চালাবে যখন তাদের নিজস্ব লোক সেখানে থাকবে?

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর