advertisement
আপনি পড়ছেন

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের আভাস দেখা যাচ্ছে বিহারে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডি-ইউ) বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছেড়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কংগ্রেসের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধতে পারে। আগামীকাল জেডি-ইউ বিধায়কদের সভা থেকেই এমন ঘোষণা আসতে পারে।

congress jd rjd twsd কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, জেডি-ইউ প্রধান নীতিশ কুমার ও আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব

নিজের রাজনৈতিক অনুচর ও সাবেক আমলা রামচন্দ্র প্রসাদ সিং ওরফে আরপি সিংকে জেডি-ইউ সভাপতি বানিয়েছিলেন নীতিশ কুমার। পাশাপাশি তাকে দলীয় কোটায় ২০১৯ সালে এনডিএ মন্ত্রিসভার সদস্য বানিয়েছিলেন। কিন্তু এই আরপি সিংকে দিয়েই বিজেপি বিহারে নীতিশ কুমারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মহারাষ্ট্র স্টাইলের ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে করছেন জেডি-ইউর প্রথম সারির অনেক নেতা।

পাটনাসহ বিভিন্ন শহরে অনেকগুলো প্লট কেনায় আরপি সিংয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে জেডি-ইউর ভেতর থেকে। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শাতে চিঠি দেন নীতিশ কুমার। চিঠির জবাব না দিয়ে উল্টো দলীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন আরপি সিং। দল থেকে বেরিয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে এনডিএ মন্ত্রিসভা থেকেও তার বাদ পড়ার কথা। কেননা মন্ত্রিসভায় দলের কাকে পাঠানো হবে সে সিদ্ধান্ত তো দল থেকেই আসবে। কিন্তু আরপি সিং বলেছেন, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তার নাম দেখেই তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে।

জেডি-ইউ থেকে কাকে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে না হবে সে বিষয়ে অমিত শাহর মাতব্বরি কথাবার্তায় ক্ষেপেছেন নীতিশ কুমার। আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে জেডি-ইউ প্রধানের সম্পর্ক শীতল যাচ্ছিল। গত ১৭ জুলাই থেকে তিনি নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চারটি সভায় যোগ দানে বিরত থেকেছেন।

গতকাল রোববার মোদির সভাপতিত্বে নীতি আয়োগ (পরিকল্পনা কমিশন) বৈঠকে যোগ দেননি নীতিশ কুমার। গত ২৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদে এনডিএর প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি থাকেননি। ২২ জুলাই বিদায়ী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের সম্মানে নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত ভোজসভায় তিনি যাননি। এর আগে ১৭ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে মোদির বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

আগামীকাল মঙ্গলবার জেডি-ইউ বিধায়ক ও এমপিদের বৈঠক ডেকেছেন নীতিশ কুমার। যেহেতু এখন বিহার বিধানসভার অধিবেশন চলছে না, তাই দলীয় বিধায়ক ও এমপিদের নিয়ে নীতিশ কুমারের বৈঠককে অনেকেই বিজেপির সঙ্গে চূড়ান্তভাবে সম্পর্কচ্ছেদের ইঙ্গিত মনে করছেন।

এদিকে একইদিন বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি দলীয় বিধায়কদের বৈঠক করেছে। আবার আজ সোমবার বৈঠক করেছেন আরেক বিরোধীদল কংগ্রেসের বিধায়করা। সব মিলিয়ে অনেকের ধারণা, বিহারে আবারও জেডি-ইউ, আরজেডি ও কংগ্রেসের মহাগাটবন্ধন (মহাজোট) সরকার হতে চলেছে। আরজেডি ও কংগ্রেস নেতাদের কিছু বক্তব্যও তেমন ধারণা দিচ্ছে।

আরজেডি সহ-সভাপতি শিবানন্দ তিওয়ারি আজ পাটনায় সাংবাদিকদের বলেছেন, নীতিশ কুমার যদি বিজেপিকে ছাড়েন, তাহলে আমরা তার সঙ্গে গলা মেলাবো। আরজেডি লড়াই করছে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে। নীতিশ কুমার সে লড়াইয়ে আসতে চাইলে আমরা তাকে সঙ্গে নিব।

কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক ও বিহারের এমএলএ শাকিল আহমাদ খান বলেছেন, নীতিশ কুমারের দল সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। তিনি যদি বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, কংগ্রেস তাকে বিরোধী ক্যাম্পে স্বাগত জানাবে। প্রয়োজনে বিহারে সরকার গঠনে কংগ্রেস তাকে সমর্থন দেবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর