advertisement
আপনি পড়ছেন

অষ্টমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জনতা দল ইউনাইটেড (জেডি-ইউ) নেতা নীতিশ কুমার। তার সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব। আজ দুপুরে বিহার রাজভবনে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

nitish tejashwi twsd অভিমান ভুলে আবারও জোট বাঁধলেন নীতিশ কুমার ও তেজস্বী যাদব

শপথ গ্রহণের পর নীতিশ কুমার বলেছেন, বিহারের নতুন সরকার মৃসণভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে নীতিশ বলেন, তিনি (মোদি) ২০১৪ সালে নির্বাচনে জিতেছেন, তবে ২০২৪ সাল নিয়ে তাকে উদ্বেগে ভুগতে হবে।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বলেছেন, বিহার পথ দেখিয়েছে। এখন সারাদেশের উচিত বিহারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিজেপিকে ছুঁড়ে ফেলা। মুখ্যমন্ত্রী (নীতিশ) তার কাজে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিলেন। তিনি আমাদের সমর্থন চেয়েছেন। আমরা সাড়া দিয়েছি। আমরা এক মাসের মধ্যে দরিদ্র জনগণের জন্য নজিরবিহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব।

এর আগে মঙ্গলবার জেডি-ইউ বিধায়ক ও এমপিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নীতিশ কুমার বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি রাতে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং আরেজেডি ও অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ প্রার্থনা করেন।

নীতিশ কুমার অভিযোগ করেন, জনতা দলে ভাঙন সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল বিজেপি। আমরা তাদের মহারাষ্ট্রের মতো কায়দায় সরকার পতনের সুযোগ দিবো না। এজন্য নিজেরাই আগে থেকে বিজেপিকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আরজেডি ও কংগ্রেসের মহাজোটের সঙ্গে হাত মেলালেন নীতিশ কুমার। এর আগে ২০১৫ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে জিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। যদিও দুই বছর আবার তিনি মহাজোট ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলান।

আজ দুপুরে শপথ গ্রহণের পর নীতিশ কুমার আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় লালু প্রসাদ নীতিশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং সাফল্য কামনা করেন।

জেডি-ইউ নেতারা জানিয়েছেন, নীতিশ কুমার শীঘ্রই দিল্লীতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার পুত্র রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এর আগে দুই নেতার সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি বিজেপিকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জানা গেছে, গত মাসে শিব সেনার একদল বিধায়ককে ভাগিয়ে নিয়ে প্রথমে গুজরাট ও আসামে রেখে বিজেপি যেভাবে মহারাষ্ট্রে উদ্ভব থ্যাকারে সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, সেটা দেখে নীতিশ কুমার দলটির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বিজেপির ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ও কূটকৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সোনিয়া গান্ধী তাকে বিজেপির বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপে কংগ্রেসের সমর্থনের আশ্বাস দেন।

নীতিশ কুমার তার পুরোনো মিত্র লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে সোনিয়া গান্ধীর সাহায্য প্রার্থনা করেন। সোনিয়া গান্ধী লালু প্রসাদ যাদবকে নীতিশ কুমারের সঙ্গে কথা বলতে রাজি করান। লালু প্রসাত তখন তার পুত্র তেজস্বী যাদবকে অভিমান ভুলে নীতিশ কুমারের সঙ্গে কাজ করতে বলেন। এরপর নীতিশ কুমার বিজেপি থেকে ক্রমশ দূরে সরতে থাকেন এবং গতকাল হিন্দুত্ববাদী দলটিকে ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর