advertisement
আপনি পড়ছেন

রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য চুক্তি গত ২২ জুলাই ইস্তাম্বুলে স্বাক্ষরিত হয়। এরপরই গুজব ওঠে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে তুরস্ক ইউক্রেনের শস্যে ২৫ শতাংশ ছাড় পাচ্ছে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, আমরা চুক্তিটির ব্যাপারে অনেক গবেষণা করেছি। ইস্তাম্বুলে স্বাক্ষরিত ‌'ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ' চুক্তিতে কোনো ছাড়ের কথা উল্লেখ নেই। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

stephane dujarric spokesperson for un secretaryআন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক

ডুজারিক বুধবার শস্য চুক্তি এবং ইউক্রেনীয় শস্য কেনার জন্য তুরস্কের সম্ভাব্য ছাড় পাওয়ার বিষয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। জবাবে তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তির কথা জানি না, যে চুক্তিতে কোনো ছাড়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তুরস্কের মধ্যস্থতায় শস্য চুক্তির ঘোষণার পর প্রথম সপ্তাহে ইউক্রেন প্রায় ৪ লাখ টন শস্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন শস্য ভুট্টা এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। এসব শস্য বহনকারী ১২টি জাহাজকে ইতোমধ্যে ইউক্রেনীয় বন্দর ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ইস্তাম্বুলের যৌথ সমন্বয় কেন্দ্রে (জেসিসি) নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী সমন্বয়কারী ফ্রেডরিক কেনি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, এই শস্য রপ্তানি শুরু হওয়ার পর থেকে জাহাজ মালিকরা শস্য পরিবহনে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বহুসংখ্যক জাহাজ মালিক শস্য পরিবহনের সুযোগ নিতে আবেদন করেছেন।

ফ্রেডরিক কেনি বলেন, বেশকিছু খালি জাহাজ তুর্কি জলসীমায় অপেক্ষা করছে। তারা শস্য পরিবহনে যুক্ত হতে চায়। তাদের সাথে বোঝাপড়া হয়ে গেলে তারাও শস্য পরিবহনে কৃষ্ণসাগরে যুক্ত হবে। পরের সপ্তাহে প্রথম গম রপ্তানির প্রত্যাশাও করছেন তিনি।

তিনটি ইউক্রেনীয় বন্দর থেকে শস্য রপ্তানি শুরু করতে তুরস্ক, জাতিসংঘ, রাশিয়া এবং ইউক্রেন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। মূলত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের উদ্যোগে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

কৃষ্ণসাগরের ওই তিনটি বন্দর হলো- ওডেসা, চোরনোমর্স্ক এবং ইউঝনি। এসব বন্দরে আটকে থাকা শস্য রপ্তানি শুরু হওয়ায় ওই চুক্তিটিকে যুগান্তকারী চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বনেতারা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করলে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। এই অবস্থায় বিশ্বনেতারা একটি সমাধান খুঁজছিলেন। আর সেই সমাধানটি আসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের হাত ধরে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর