আপনি পড়ছেন

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ওপর হামলা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির হত্যাকারীদের জন্য একটি সতর্কতা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি এক আইনপ্রণেতা। শুক্রবার পশ্চিম নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর আল আরাবিয়া নিউজ।

iran lawmaker says attack on rushdie was warning to killersরুশদির ওপর হামলা সোলেইমানির খুনিদের জন্য সতর্কতা!

রুশদির বুক এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি বলেছেন, লেখক সম্ভবত একটি চোখ হারাবেন। তার বাহুর স্নায়ু বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ছুরিকাঘাতে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার সন্দেহভাজন হাদি মাতারের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে বন্দি করা হয়েছে। শনিবার চৌতাউকা কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই আইনপ্রণেতা টুইটারে লিখেছেন, রুশদির ওপর হামলায় ইরান সরাসরি জড়িত কিনা তা পরের বিষয়, তবে শহীদ সোলেইমানির হত্যাকারীদের জন্য হামলাটি একটি সতর্কবাণী। এই ইরানি আইনপ্রণেতার নাম মালেক শরিয়তি। তিনি ইরানের সংসদে তেহরান প্রদেশের বেশ কয়েকটি নির্বাচনী জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন।

ওই আইনপ্রণেতা বলেন, ইরান যদি সরাসরি জড়িত থাকে, তাহলে তা ইরানের শক্তি প্রমাণ করে। ইরান থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করা কোনো মুসলমান যদি হামলা চালায়, তাহলে বুঝতে হবে ইসলামি বিপ্লবের বীজ তার হৃদয়ে সুপ্ত ছিল। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্য এর পেছনে থাকে, তবে এটি তাদের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। যে কোনো অবস্থাতেই এই হামলা শহীদ সোলেইমানির হত্যাকারীদের জন্য একটি সতর্কবাণী।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় সোলেইমানি নিহত হন। তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের বিদেশি শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার আইআরজিসির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যার ষড়যন্ত্রটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ইরান বনাম রুশদি

রুশদির ওপর হামলাকারী মাতারের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি শিয়া গ্রুপের মুসলমান। আইআরজিসির প্রতি তিনি সহানুভূতিশীল। এনবিসি এসব তথ্য জানিয়েছে।

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় রুশদির চতুর্থ উপন্যাস 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস'। এই উপন্যাসটির জন্য রুশদি দীর্ঘদিন ধরে হত্যার হুমকির মুখে রয়েছেন। ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি লেখক রুশদিকে হত্যার জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে একই ঘোষণার নবায়ন করে ইরান।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর