advertisement
আপনি পড়ছেন

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় দুই শ বছরের পুরোনো খেজুর পাতায় লেখা পবিত্র কুরআনের একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রচলিত খেজুর পাতার ঝুলন্ত পালমিরায় পাংগুটিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য ‘কাভি’ লিখন পদ্ধতিতে কুরআন লিপিবদ্ধ করাই ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য থেকে সরে এসে ঝুলন্ত পালমিরায় পাংগুটিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কুরআনের পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছে। খবর জিওটিভি।

quran written on palm leavesখেজুর পাতায় লেখা কুরআন

এর মূল আয়াতগুলো কালো কালি দিয়ে লেখা এবং বিরাম চিহ্নগুলো কিছুটা ভিন্ন কালো কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্য খেজুরপাতার তুলনায় পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহার করা এই খেজুর পাতা অনেক বেশি টেকসই।

এ পাণ্ডুলিপিতে কুরআনের মোট সাতটি সুরা লিপিবদ্ধ আছে। এর জন্য ৩৫টি খেজুর পাতা ব্যবহার করা হয়েছে। ১০৫ সেমি দৈর্ঘ্য ও ৩৭ সেমি প্রস্থ প্রতিটি খেজুর পাতায় তিনটি করে লাইন লেখা আছে। পরে পাতাগুলো মোটা সুতা দিয়ে সংযুক্ত করে মেহেগনি কাঠের বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

quran on palm leavesকুরআনের পাণ্ডুলিপি ও তা সংরক্ষণে মেহেগনি কাঠের বাক্স

গবেষকরা মনে করছেন, খেজুর পাতায় লেখা কুরআনের এ পাণ্ডুলিপিটি খ্রিস্টীয় আঠার বা উনিশ শতকের। ইন্দোনেশিয়ার অচেহ অঞ্চলের কোথাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা। তবে পাণ্ডুলিপিটি উদ্ধার করা হয়েছে পিকানবারু শহর থেকে।

উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআনে ২৬ বার খেজুরের কথা বলা হয়েছে। সূরা মরিয়মে এর উপকারিতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার পবিত্র হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিন ব্যক্তিকে খেজুর গাছের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ইসলামের আগমনভূমি আরব উপদ্বীপে অন্যতম প্রধান খাবার খেজুর। মহানবি (স.) কর্তৃক নির্মিত মসজিদে নববিতে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল খেজুর গাছ এবং ছাঁদের আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল খেজুরগাছের পাতা। সব মিলিয়ে ইসলামমি ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে খেজুর, খেজুরগাছ ও খেজুর পাতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। 

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর