advertisement
আপনি পড়ছেন

আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেছেন। দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের চলা বৈরী মনোভাব মেটাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কীভাবে আরও টেকসই করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

armenia azerbaijan meetingব্লিঙ্কেনকে মাঝে রেখে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

সবশেষ গত সপ্তাহে আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘাত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০০ সেনা নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে মিলিত হলেন। ব্লিঙ্কেন বৈঠকের শুরুতেই বক্তব্য দেন। এসময় তার দুপাশে আলাদাভাবে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

ব্লিঙ্কেন বলেন, আমরা আনন্দিত যে, আপনারা দুই পক্ষ বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতি এখনও কেউ ভঙ্গ করেননি। আমরা চাই একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি। দুই পক্ষের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধান খুবই দরকার। নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে আপনারা শান্তির পথে অগ্রসর হবেন, আমরা সেটা চাই।

মার্কিন হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির আর্মেনিয়া সফরের পরই মূলত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। পেলোসি তার সফরে আর্মেনিয়ায় হামলার জন্য আজারবাইজানকে নিন্দা করেন। বাকুর বিরুদ্ধে তিনি বিষোদগার করেন। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইরামভ রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, পেলোসির বক্তব্য আর্মেনিয়ার অপপ্রচারকে আরও জোরালো করবে।

বেইরামভ বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়ার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক। সরাসারি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিরজয়ানের সাথে বৈঠক করতে চাই। আমাদের মধ্যে আলোচনার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।

ককেশীয় দেশ আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার মধ্যে দশকজুড়ে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয় নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে। বিতর্কিত অঞ্চলটি থেকে আর্মেনিয়া ২০২০ সালের যুদ্ধে সরে যেতে বাধ্য হয়। ওই সময় দেড় মাস যুদ্ধ চলে দুদেশের মধ্যে। যুদ্ধে ৬ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।