যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করবে ইউরোপীয় মিত্ররা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইউক্রেনের সুরক্ষায় একটি ‘রিঅ্যাসিওরেন্স ফোর্স’ বা নিশ্চয়তামূলক নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের প্রধান মিত্র দেশগুলো। এই উদ্যোগকে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ সংক্রান্ত একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে (ডিক্লারেশন অব ইনটেন্ট) সই করেন। এতে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মঙ্গলবার ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ দুই ডজনেরও বেশি দেশ বৈঠকে বসে। এতে যোগ দেন জেলেনস্কি। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও। ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত দেশগুলো কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছে— যুদ্ধ বন্ধ হলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে কীভাবে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দেওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনা মোতায়েনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা ছাড়া দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
প্রস্তাবিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন,‘আজকের জোটের দলিলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো শুধু কথার কথা নয়। এখানে বাস্তব বিষয়বস্তু রয়েছে— সব দেশের যৌথ ঘোষণা এবং ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ইউক্রেনের ত্রিপাক্ষিক ঘোষণা।’ তিনি আরও বলেন, বাহিনীগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন পর্যায়ে কমান্ড কাঠামো থাকবে, তাও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, শান্তি রক্ষার জন্য ইউক্রেনে কয়েক হাজার ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। তিনি ফ্রান্স ২ টেলিভিশনকে বলেন, এই বাহিনী কোনো যুদ্ধের কাজে যুক্ত থাকবে না। এটি হবে একটি ‘রিঅ্যাসিওরেন্স ফোর্স’।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে মিত্ররা অংশ নেবে। পাশাপাশি ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। তিনি আরও জানান, শান্তিচুক্তি হলে ইউক্রেনজুড়ে সামরিক হাব স্থাপন করা হবে এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য সুরক্ষিত স্থাপনা তৈরি করা হবে। স্টারমারের ভাষায়, ইউক্রেনে শান্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি। তবে সবচেয়ে কঠিন ধাপগুলো এখনও বাকি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও সমৃদ্ধি পরিকল্পনাসহ ইউক্রেন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো প্রায় চূড়ান্ত।
প্যারিসে আলোচনার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে উইটকফ লেখেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি অপরিহার্য— এ বিষয়ে আমরা জোটের সঙ্গে একমত।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস বলেন, ইউক্রেনের পুনর্গঠন সরাসরি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত। তার ভাষায়, রাশিয়াকে ভবিষ্যতে প্রতিহত করার জন্য ইউক্রেনের অর্থনৈতিক শক্তি অপরিহার্য। তবে শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের কিছু সমঝোতা করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। মস্কো বারবার তাদের পূর্বশর্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে, একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা ছাড়া কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.