advertisement
আপনি পড়ছেন

অস্ট্রেলিয়ার সরকার দেশটির তাসমানিয়া প্রদেশের সৈকতে ১৪টি অল্পবয়সী তিমির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে। দেশটির প্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে একদল জীব বিশেষজ্ঞ তদন্তে হাত দিয়েছেন। কেন এতগুলো তিমির মৃত্যু হল তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। গত সোমবার তিমিগুলোর মৃত্যু হয়। সৈকতটি তাসমানিয়ার দূরাঞ্চলে অবস্থিত এবং পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

australia whales deathসৈকতে পড়ে আছে একটি মৃত তিমি

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাসমানিয়ার উত্তর সৈকতে ১৪টি তিমিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীববিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল প্রদর্শন করেছেন। তারা এলাকাভিত্তিক অভিযান চালিয়ে আর কোনো মৃত তিমি খুঁজে পাননি। স্থানীয় প্রশাসনকে সৈকতগুলোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জীববিজ্ঞানী ক্রিস কার্লিয়নের বরাত দিয়ে রাজ্য সরকারের পরামর্শক এজেন্সি জানিয়েছে, অল্পবয়সী তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ মূলত ভ্রমণের অনুপযুুক্ত পরিবেশ। তিমিগুলো আটকে পড়েছিল। তারা স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসায় সৈকতে উঠে পড়ে। এরপর অল্প গভীরতায় আটকে পড়ায় খাদ্যের অভাবে তিমিগুলো মারা যায়। এটাই মূল কারণ।

কার্লিয়ন বলেন, মৃত্যুর আগে তিমিগুলো সৈকতে উঠে আসে। এটা খুবই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। আটকে পড়ায় তিমিগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তিমি আটকে পড়ার ঘটনায় একই কারণ দেখা যায়। কারণ তিমিগুলো প্রত্যাশিত খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়।

খবরে বলা হয়, ২০২০ সালে ৪৭০টি তিমি সৈকতে আটকে পড়েছিল, যা ছিল অস্ট্রেলিয়ায় তিমি আটকে পড়ার সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওই ঘটনায় ৩০০টিরও বেশি পাইলট তিমি মারা গিয়েছিল। যদিও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তারা তিমিগুলো পানিতে ছেড়ে দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি।

২০২০ সালের ওই ঘটনাটি আজও রহস্যময় থেকে গেছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, তিমিগুলো মূলত খাদ্যাভাবে উপকূলের দিকে চলে এসেছিল। কিছু তিমি অন্যদের অনুসরণ করতে গিয়ে আটকা পড়তে পারে বলেও তাদের ধারনা। তিমি মৃত্যুর ঘটনা পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে প্রায় সব ঘটনার কারণ একই ধরনের হয়।