advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানির দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। অন্যদিকে তেল-গ্যাসের দাম স্থিতিশীল থাকায় এবং হাইড্রোজেনসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পে প্রণোদনা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এটা স্পষ্ট যে, ইউরোপে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে লাভবান কোনো পক্ষ থাকলে সেটা হচ্ছে মার্কিন অর্থনীতি। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

arcelor mittal gas tlsd বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত কোম্পানি আরচেলর-মিত্তাল জার্মানি ও স্পেনে উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে

গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ায় ইউরোপে ইস্পাত, সার ও শিল্পপণ্য প্রস্তুতকারী বেশ কয়েকটি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে। জ্বালানি  বাজারের বেশামাল অবস্থা ও সরবরাহ চেইনে বিচ্যুতির কারণে ইউরোপে নতুন বিশিল্পায়নের যুগ আসছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ।

শিল্পোদ্যোক্তা ও করপোরেট এক্সিকিউটিভরা বলছেন, ইউরোপে পরিষেবা ও সরবরাহ অবকাঠামোর যখন নাকাল অবস্থা, ঠিক তখন ম্যানুফ্যাকচারিং ও সবুজ-জ্বালানি প্রকল্পের জন্য নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে জো বাইডেন প্রশাসন। সব মিলিয়ে ইউরোপের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি অনুকূল ও সুবিধাজনক ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বিশেষতঃ রাসায়নিক, ব্যাটারি ও অন্যান্য জ্বালানিঘন শিল্পখাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে।

রাসায়নিক পণ্য প্রস্তুতকারক ওসিআই এনভি’র সিইও আহমেদ আল-হোশি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে না নেওয়ার কোনো যুক্তি হয় না। আমস্টারডাম-ভিত্তিক কোম্পানি ওসিআই এনভি চলতি মাসে তাদের টেক্সাসে অবস্থিত অ্যামোনিয়া কারখানা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা যে খুব ভালো, তা নয়। রেকর্ড মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি সরবরাহ চেইনে সমস্যা রয়েছে, মন্দার আশঙ্কাও রয়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে কারণ চীন এখনও কোভিড লকডাউন বলবত করা অব্যাহত রেখেছে আর ইউরোপ যুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

ড্যানিশ জুয়েলারি কোম্পানি প্যান্ডোরা এএস ও জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক ভক্সওয়াগন কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক টেসলা গত সপ্তাহে জার্মানিতে ব্যাটারি সেল তৈরির পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেছে তারা আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্বাক্ষরিত মূল্যস্ফীতি হ্রাস আইনের সুবিধা নেওয়ার কথা ভাবছে।

অগ্রসর শিল্পপণ্যের বাজার হিসেবে ইউরোপের আকর্ষণ রয়েছে। সেখানকার শ্রমশক্তিও দক্ষ। তারপরও গ্যাস-বিদ্যুতের দামের ঊর্ধ্বগতি চলতে থাকলে শিল্প-কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলে মনে করেন অস্ট্রিয়ার কোম্পানি আরএইচআই ম্যাগনেসিটার সিইও স্টিফেন বোরগাস।

রিফ্র্যাক্টরি প্রস্তুত খাতে বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানি আরএইচআই ম্যাগনেসিটা তাদের ইউরোপীয় কারখানাগুলোর কিছু কাজ যাতে গ্যাসের পরিবর্তে কয়লা অথবা তেল দিয়ে চালানো যায়, সেজন্য ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। রুশ কোম্পানি গ্যাজপ্রমের যে ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগার অস্ট্রিয়া সরকার জব্দ করেছে, আরএইচআই সেটা ভাড়া নিয়ে গ্যাস মজুত করেছে।

তবে শেষপর্যন্ত ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাবার আভাস দিয়ে স্টিফেন বোরগাস বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি যাতে সেখানে লগ্নিকারী অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সমান তালে চলতে পারি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে খুবই ইতিবাচক।

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে একইরকম উচ্ছাস আরচেলর-মিত্তালের সিইও আদিত্য মিত্তালের কন্ঠে। ইস্পাত খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি আরচেলর-মিত্তাল চলতি মাসে জার্মানিতে তাদের দুটি কারখানায় উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। স্পেনেও কারখানা বন্ধ করেছে কোম্পানিটি। আদিত্য মিত্তাল বলেন, টেক্সাসে আমাদের হট ব্রিকেটেড আয়রন কারখানা রেকর্ড মুনাফা করছে। এর অন্যতম কারণ হলো সেখানে প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি পাওয়া যায়। আমরা সেখানে শতভাগ সম্প্রসারণ করব।

ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ক্রেতা এবং বিশ্বে রাসায়নিক খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বিএএসএফ গ্যাস সংকটের কারণে বেলজিয়াম ও জার্মানির কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে। নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠার ঝক্কিসহ নানা কারণে কিছু কোম্পানি খুব দ্রুত স্থানান্তর করতে চাচ্ছে না। তবে জ্বালানির তুলনামুলক কম দামের সুবিধা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধী যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কোম্পানিগুলো পণ্যের দাম কমালে একপর্যায়ে এরাও ইউরোপ থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর