আপনি পড়ছেন

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের লোগো

সংস্থাটি বলেছে, এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি বলপ্রয়োগের শামিল, যা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি কিংবা বলপ্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভেনেজুয়েলার ঘটনায় আমরা এই নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন দেখতে পাচ্ছি।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব রাষ্ট্রকে একযোগে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানাতে হবে এবং স্পষ্ট করে বলতে হবে এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর পরিপন্থী।

গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনী ও বিমান হামলার সহায়তায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। শনিবার ভোরে চালানো ওই অভিযানের পর সোমবার মাদুরোকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের আনা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তিনি এখনও ভেনেজুয়েলার সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট। ২০১৩ সালে প্রয়াত হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন মাদুরো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, মাদুরো ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কারচুপি করে ক্ষমতায় টিকে আছেন এবং বিরোধী নেতাদের দমন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়েও তারা একই অভিযোগ তোলে।

তবে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাব কখনোই একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপ হতে পারে না।

রাভিনা শামদাসানি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার বৈধ পথ রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে তা অর্জন করা যায় না। মানবাধিকারের অজুহাতে এই ধরনের অভিযান সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সংকট আরও গভীর করবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে।

মার্কিন অভিযানের পরপরই ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এই অবস্থায় সম্পত্তি জব্দ, চলাচলের স্বাধীনতা সীমিতকরণ এবং বিক্ষোভের অধিকার স্থগিতসহ একাধিক কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।

শামদাসানি বলেন, এটিকে মানবাধিকারের বিজয় বলা যায় না। বরং এই সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওচা জানিয়েছে, অভিযানের আগেই ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ অর্থাৎ দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

অন্যদিকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় আকারের গণ-বাস্তুচ্যুতির লক্ষণ দেখা যায়নি।

সংস্থাটির মুখপাত্র ইউজিন বিয়ুন বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে জরুরি ত্রাণ ও বাস্তুচ্যুতদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুতে ভেনেজুয়েলা সরকার দেশটি থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের আন্তর্জাতিক কর্মীদের বহিষ্কার করে। বর্তমানে সংস্থাটি পানামা থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.