আপনি পড়ছেন

পিস্তল হাতে এক রোহিঙ্গা তরুণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকসহ ইন্টারনেট জগতে। মোহাম্মদ হাশিম নামের ওই তরুণ দাবি করেছেন, চারজন রোহিঙ্গা নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছেন তিনি। অর্থের বিনিময়ে নিজেদের গোষ্ঠীর লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা ঠিক হয়নি বলে ভিডিওতে স্বীকার করেন ওই তরুণ। এ জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন উখিয়া আশ্রয়শিবিরে থাকা দাবিদার এই রোহিঙ্গা।

rohingya pistol vedioপিস্তল হাতে ভিডিও এক রোহিঙ্গা তরুণের

উখিয়া পুলিশ জানিয়েছে, ‘মো. আবদুল্লাহ মো. আবদুল্লাহ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে ভিডিওটি। ওই আইডির কভার পেজে আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) লোগো রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পোস্ট করা ভিডিওটি কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এক মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ওই তরুণের খোঁজে মাঠে নামেন।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ভিডিওটি সম্ভবত রাতে ধারণ করা হয়েছে। হাশিম নামের ওই তরুণকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হাশিম নামের ওই তরুণ ভিডিওতে এক হাতে পিস্তল ধরে রোহিঙ্গাদের আঞ্চলিক ভাষায় সবাইকে সালাম দেন। নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আঁর নাম মোহাম্মদ হাশিম, বাপন (বাবা) নাম মৃত আবদু জব্বর, আঁই (আমি) বুচিডং অর (রাখাইন) কোয়ানচিমং পাড়ার। বাংলাদেশত হইলদে (আছি) ক্যাম্প-১৮, ব্লক-ইস্ট-৩। মাঝি আবদুল জব্বার।’

হাশিম আরও বলেন, ২৫ জন রোহিঙ্গা যুবককে ২৫টি পিস্তল দেওয়া হয়েছে। পিস্তল দিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ ইসলামী মাহাসের নেতা সাহাব উদ্দিন, রহমত উল্লাহ, মৌলভি রফিক ও হেড মাঝি ভূঁইয়া।

ভিডিও বার্তায় ওই তরুণ জানায়, মাহাস হত্যার জন্য ২৫ জন রোহিঙ্গা তরুণকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছে। যারা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করেন, তাদের হত্যা করেই তাদের মিশন। গত কয়েকদিনে তিন মাঝিসহ এক স্বেচ্ছাসেবককে হত্যা করা হয়েছে।

তাদের হাতে হত্যার শিকার রোহিঙ্গা মাঝিদের নামও বলেন হাশিম। তারা হলেন, ৭ নম্বর ক্যাম্পের ইসমাঈল, ১৮ নম্বর ক্যাম্পের হেড মাঝি জাফর, কুতুপালং সম্প্রসারিত ক্যাম্প-৪ এইচ ব্লকের এরশাদ ও হেড মাঝি আজিমুল্লাহ।

ভিডিওতে হাশিম জানান, সামনে আরও বড় মিশন ছিল। তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি। তাই খারাপ জগৎ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তিনি। নিজেদের ভাই-বন্ধুদের হত্যা করছেন তারা- এই অন্যায় বুঝতে পেরে ক্ষমা চান হাশিম।

ভিডিওটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাতের বেলায় ক্যাম্পের কোনো বসতিতে ভিডিওটি ধারণ করা। তরুণের পেছনে বাঁশের বেড়া। ভিডিওটি অন্য কেউ ধারণ করেছেন। আর মনে হচ্ছে, হাশিম বার্তাটি দেখে দেখে পড়ছিলেন।

হাশিমের এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনেকের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, হাশিম নামের রোহিঙ্গার ভিডিওটি নজরে এসেছে। আশ্রয়শিবিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিরাপত্তার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর