আপনি পড়ছেন

২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ব্যক্তিদের বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে হজ অফিসের পরিচালককে নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজিরা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

hajiবাংলাদেশ থেকে এ বছর হজ করেন ৫৬ হাজার ৯৫২ জন

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ বছর হজে বেঁচে যাওয়া অর্থ ফেরত পাবেন সরকারি ব্যবস্থাপনার হজে যাওয়া তিন হাজার ৭০০-এর অধিক হাজি। এজন্য এরইমধ্যে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ৫ হাজার ১৭৭ টাকা মন্ত্রণালয় থেকে হজ অফিস পরিচালকের অনুকূলে পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবে বাড়ি ও হোটেল ভাড়ায় ব্যয় না হওয়া এ অর্থ থেকে প্যাকেজ-১ এর হাজিরা জনপ্রতি ৪৭ হাজার ৭২৬ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর হাজিরা ১০ হাজার ২৯৩ টাকা করে ফেরত পাবেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাজিদের টাকা দেওয়া শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, করোনার কারণে অন্যবারের চেয়ে এবার প্রস্তুতির সময় ছিল কম। ফলে সৌদি আরবে বিভিন্ন খরচ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সেগুলোর আনুমানিক খরচ ধরে হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছিলো। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার হাজির সংখ্যা অনেক কম থাকায় হোটেল ও বাড়ি তুলনামূলক সহজলভ্য ছিল। ফলে ভাড়াও ছিল কম। এ কারণেই কিছু অর্থ বেঁচে গেছে, যা ফেরত দেওয়া হবে।

bangladeshi hajjiসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা ব্যক্তিরা কিছু অর্থ ফেরত পাবেন

তিনি আরও জানান, হজযাত্রীদের চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যে মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছিলো, ওই নম্বর যাচাই করে চেক দেওয়া হবে।

তবে বেসরকারিভাবে এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে হজে যাওয়া ব্যক্তিদের খরচ ফেরতের বিষয়ে জানানো হয়, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতাদের এ ব্যাপারে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা জানিয়েছে, সরকার লাভ করে না, তাই টাকা ফেরত দিতে পারে। কিন্তু এজেন্সিগুলোর হিসাব তো আলাদা। তাছাড়া হিসাব-নিকাশের কাজও শেষ, তাই হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হজে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন ৫৬ হাজার ৯৫২ জন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩ হাজার ৮৯০ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৬২ জন হজে যান।

গত দুই বছর করোনার কারণে সীমিত পরিসরে হজ পালন করায় বাংলাদেশিসহ কোনো বিদেশির জন্য হজ পালনের সুযোগ ছিল না। করোনার পর এবারই বড় আকারে হজের অনুমতি দেয় সৌদি সরকার। তবে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই খরচ বৃদ্ধির কথা জানায় সরকার। এর ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর খরচ ধরা হয় জনপ্রতি ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর খরচ ধরা হয় ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগে ভারত ও আফগানিস্তানেও হজে বেঁচে যাওয়া অর্থ হাজিদের ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর