আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। ইসলামাবাদ দায়রা জজ আদালতের একজন বিচারককে নিয়ে মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করেন হাইকোর্ট। ইমরান খান আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করলে আদালত তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নোটিশ প্রত্যাহার করে নেন। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

imran khan 19আদালত অবমাননার অভিযোগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে জারিকৃত শোকজ বাতিল করেছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট

ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ আজ ইমরান খানের বিরুদ্ধে শোকজের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি তারিক মেহমুদ জাহাঙ্গীরী, বিচারপতি মহসিন আখতার কায়ানি, বিচারপতি মিয়াগুল হাসান আওরঙ্গজেব ও বিচারপতি বাবর সাত্তার।

আগস্ট মাসে ইসলামাবাদের এফ-নাইন পার্কে এক জনসভায় পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান তার দলের নেতা শাহবাজ গুলকে দুইদিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোয় ইসলামাবাদের অতিরিক্ত দায়রা জজ জেবা চৌধুরীর সমালোচনা করে বলেন, আমরা সবকিছু দেখছি। যে বিচারক একজন রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষককে পুলিশ রিমান্ডে পাঠাতে পারেন, তার লজ্জা হওয়া উচিত। একদিন তাকেও জবাব দিতে হবে।

ইমরান খান এমন বক্তব্য দিয়ে বিচারককে হুমকি দিয়েছেন- মর্মে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ বিচারের জন্য আগস্ট মাসেই পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গঠন করেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। বিষয়টি নিয়ে দুইদিন আগে আদালতে দাখিলকৃত এক এফিডেভিটে খান বলেন, তিনি ভবিষ্যতে কখনও এমন কিছু করবেন না যাতে কোনো আদালতের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিষয়ে তিনি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে এফিডেভিটে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, পূর্ববর্তী শুনানিতে ইমরান খান আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি তাতে বহাল থাকবেন। এরপরও আদালতকে সন্তষ্ট করতে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি নেবেন। জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে ইমরান খান সীমা লঙ্ঘন করেছেন বলে আদালত মনে করলে তিনি দুঃখপ্রকাশ করতেও রাজি আছেন বলে জানানো হয়।

আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখোমুখি হতে ইমরান খান তিনদিন আগে ইসলামাবাদ দায়রা জজ আদালতেও শুনানিতে হাজিরা দেন। বিচারক জেবা চৌধুরী সেদিন উপস্থিত ছিলেন না।

আজ দুপুরে পিটিআই চেয়ারম্যান ইসলামাবাদ হাইকোর্টে শুনানিতে উপস্থিত হলে প্রধান বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ বলেন, এটা (খানের বক্তব্য) ছিল আদালত অবমাননা। তবে খান জেলা আদালতেও হাজিরা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেঞ্চের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো এফিডেভিটে দেওয়া বক্তব্যে হাইকোর্ট সন্তুষ্ট হয়েছে এবং আদালত অবমাননার নোটিশ বাতিল করা হলো।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর