আপনি পড়ছেন

বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতার তৈরি করেছে চোখ ধাঁধানো সব স্টেডিয়াম। এসবের পেছনে গত কয়েক বছর ধরে ঘাম ঝরানো শ্রম দিয়েছে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক। সেই শ্রমিকরাই যেন বিনা খরচায় খেলাসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে আয়োজক দেশ কাতার। খবর খালিজটাইমস।

general view of the migrant workersকেউ স্টেডিয়ামের চেয়ারে বসে আবার কেউবা মাঠে বসেই খেলা উপভোগ করে

কাতারের রাজধানী দোহার শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ফ্যান জোনের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে বসে বড় টিভি স্ক্রিনে পুরো আয়োজন দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে তাদের জন্য। কেউ স্টেডিয়ামের চেয়ারে বসে আবার কেউবা মাঠে বসেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম দিনের খেলা উপভোগ করেছেন। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে স্টেডিয়ামের বাইরেও একটি বিশাল টিভি পর্দা বসানো হয়েছে।

উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের গড় দাম ছিল ২০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু শ্রমিকরা বড় পর্দায় সে অনুষ্ঠান দেখার সুবিধা পেয়েছেন একেবারেই বিনামূল্যে। বাকি ম্যাচগুলোও তারা উপভোগ করতে পারবেন কোনো খরচ ছাড়াই। যদিও একেবারে মূল মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে পারছেন না তারা, তারপরও এ ব্যবস্থাপনায় তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

migrant workersখেলা চলাকালে সমর্থকদের উত্তেজনা

শ্রমিকরা বলছেন, আমরা খুবই খুশি। আমরা একসঙ্গে বসে এভাবে খেলা উপভোগ করতে পারছি। স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শেষ করে সেসব মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। সবাই সময়টাকে খুব উপভোগ করছি।

গত দুই বছর ধরে স্টেডিয়াম নির্মাণের সাথে যুক্ত থাকা ২৫ বছর বয়সী উগান্ডার নাগরিক রোনাল্ড সেনিওন্ডো বলেন, আমরা আমাদের ঘাম উদযাপন করতে এখানে এসেছি। আমাদের জন্য যেসব ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাতে আমি অভিভূত।

চলতি বছরের শুরু থেকে কাতারে কাজ করা ভারতীয় নাগরিক মোহাম্মদ আনসার (২৮) জানান, কাতার গরিবদের কথাও বিবেচনা করেছে, এখানে বিনা খরচে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তাদের ধন্যবাদ।

বাংলাদেশি নাগরিক আমিরুল হোসেনও বন্ধুদের সাথে বিনামূল্যে খেলা উপভোগ করতে এ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি চার বছর ধরে কাতারের স্টেডিয়ামে কাজ করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি এখন খুব সহজেই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখতে পারব।

বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচিত হচ্ছিল কাতার সরকার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছিল শ্রম আইন লঙ্ঘন করার বিষয়ে। নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের অতিরিক্ত খাটানো, মজুরি কম দেওয়া, বাকি রাখা ও অস্বাস্থ্যকর বাসস্থানে রাখার মাধ্যমে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ মানবাধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলোর।

তবে কাতার সরকার বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শ্রম আইন সংস্কার করেছে। মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে এসব শ্রমিকের জন্য খেলা দেখার বিশেষ এই ব্যবস্থা সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর