আপনি পড়ছেন

পাবনায় ঋণের মামলায় আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন ২৫ জন কৃষক। ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগের পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৭ কৃষকের নামে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে শুক্রবার ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা আতঙ্কে রয়েছেন।

farmer houseগ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘর ছাড়া আরও ২৫ কৃষক

শনিবার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ১২ কৃষককে গ্রেপ্তারের পর গ্রামের অধিকাংশ লোকজনের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যায়, গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ি ছেড়েছেন বাকি ২৫ জন কৃষক। অন্য জায়গায় দিনমজুরের কাজ করছেন। তাদের পরিবার হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন বললেও তাদের কাছে কোনো কাগজপত্র নেই।

ভাড়ইমারি উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমিতির সভাপতি ও ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস নাহার বলেন, ভাড়ইমারি উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতি থেকে ওই ৩৭ কৃষক দুল ভিত্তিক ঋণ নেন। ঋণের পরিমান ছিল ১৬ লাখ টাকা। এদের মধ্যে অনেকে টাকা পরিশোদ করেছেন। কারও কারও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বাকি আছে। সাত কৃষক টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে দলভিত্তিক ঋণের কারণে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এদিকে আরেকটা সমস্যা হলো, যারা টাকা পরিশোধ করেছেন তাদের অনেকের কাছেই রসিদ নেই। এ ঘটনায় আমি নিজেও আত্মগোপনে আছি। তবে যত দ্রুত সম্ভব সবার জামিনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।

ওই গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১৬ লাখ টাকা ঋণ নিলেও ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে শুনেছি। তারপরও নাকি ১২ লাখ টাকা পাওনা দেখিয়ে মামলা করেছে সমবায় সমিতিটি। 

ছলিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, কৃষকদের গ্রেপ্তারের ঘটনাটা কষ্টের। সমিতি তার নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছে। আমাদেরও বিষয়টা জানা ছিল না। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশের ভয়ে গ্রামের মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আমি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে বলেছি কৃষকদের জামিনের বিষয়ে আইনজীবীর সহায়তা নিতে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর