আপনি পড়ছেন

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কট্টরপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটের জয়ের পর থেকে অনেকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। সরকার গঠনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু যেসব রাজনীতিকের সঙ্গে চুক্তি করছেন, তাতে শান্তি প্রক্রিয়া তো বটেই, খোদ ইসরায়েলি সমাজে নাগরিকদের স্বাধীনতার বিপন্ন হতে পারে। গতকাল রোববার ইহুদী মৌলবাদী নোয়াম পার্টির সঙ্গে নেতানিয়াহুর চুক্তির পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।

israel netanyahu terrace tlsdসরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও নোয়াম পার্টির নেতা আভি মাওজের (ছবিতে ডানে) সঙ্গে চুক্তি করেছেন নেতানিয়াহু

নোয়াম পার্টির নেতা ও নবনির্বাচিত এমপি আভি মাওজকে নতুন সরকারে উপমন্ত্রী পদ দিতে চুক্তি করেছেন নেতানিয়াহু। চুক্তি অনুযায়ী, নতুন সরকার ইসরায়েলি পরিচিতি স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় একটি বিশেষ দপ্তর গঠন করবে এবং মাওজ উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ওই দপ্তরের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাবেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকবে নতুন দপ্তর।

ইসরায়েলি পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা দপ্তর নামের নতুন বিভাগটির দায়িত্ব ও এখতিয়ার কি হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুন দপ্তরের এখতিয়ার সম্পর্কে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বলেছে, সাবেক সোভিয়েত দেশগুলো থেকে ইহুদীদের ইসরায়েলে অভিবাসন দেখভালে নিয়োজিত সংস্থা ন্যাটিভকে আভি মাওজের অধীনে ন্যস্ত করা হবে। আরও কিছু সংস্থা নতুন দপ্তরের অন্তর্গত হবে।

নতুন দপ্তর গঠনের পরিকল্পনা ও মাওজের সঙ্গে চুক্তি দেখে নেতানিয়াহুর সরকারের গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট এরইমধ্যে ৬৪ আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য মাওজের একমাত্র আসনটির সমর্থন জরুরি ছিল না, এটা স্পষ্ট। তারপরও নেতানিয়াহু ভীষণ রকম আরব বিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিকতাবাদী ও ধর্মীয় মৌলবাদী আভি মাওজকে নিজের সরকারের অংশ করতে যাচ্ছেন।

আভি মাওজ তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ইসরায়েলের কথিত ল অব রিটার্ন থেকে গ্র্যান্ডফাদার ক্লজ নামে পরিচিত অনুচ্ছেদ বাতিলের কথা বলেছেন। এই অনুচ্ছেদের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এতদিন ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের অ-ইহুদী পৌত্র ও দৌহিত্ররা ইসরায়েলে অভিবাসনের সুযোগ পেতেন। আভি মাওজের ইচ্ছা পূরণ হলে ইহুদী ধর্মাবলম্বী নন এমন মানুষদের ইসরায়েলে অভিবাসনের পথ বন্ধ হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অভিবাসনে কড়াকড়ির পাশাপাশি আভি মাওজ সব নাগরিকের জন্য শাবাথ পালন বাধ্যতামূলক করবেন। সেনাবাহিনীতে নারীদের নিয়োগ তিনি বন্ধ করবেন। এছাড়া তিনি ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগ্রেসিভ স্টাডি প্রোগ্রাম নামে পরিচিত তুলনামূলক উদারনৈতিক পাঠক্রম বাদ দেবেন। পাশাপাশি তিনি স্কুলগুলোতে আরব বংশোদ্ভূত শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে পারেন বলে নোয়াম পার্টির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের ভাষ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

এর আগে নেতানিয়াহু কট্টরপন্থী ওজমা ইয়েহুদাত পার্টির নেতা ইতামার বেন গাভিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও এখতিয়ার বৃদ্ধিরও ঘোষণা দেন। ইসরায়েলি রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেন গাভিরের ক্রমশ রাজনৈতিক উত্থানে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অতীতে একাধিক অনুষ্ঠানে বেন গাভির ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরায়েলের আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকদের জীবন আরও কঠিন করে তুলবে।

বেন গাভির ও আভি মাওজের অন্তর্ভুক্তি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে উগ্রপন্থী সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে দিনদিন জোরালো করছে। কেবলমাত্র ডানপন্থী, কট্টরপন্থী, ধর্মভিত্তিক ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলোই এ সরকারের অংশ হতে যাচ্ছে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদের দল ইয়েশ আতিদ এক বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহু ও আভি মাওজের অধীনে এখন থেকে ইসরায়েলে ইহুদীরা প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বিভক্ত হবে। লেবার পার্টির এমপি গিলাদ কারিভ বলেছেন, মন্ত্রিসভায় এসব নিয়োগ ইসরায়েলের উদারপন্থী নাগরিকদের গালে চপেটাঘাতের শামিল।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর