আপনি পড়ছেন

বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরও আরব বিশ্বে ইসরায়েল যে কতটা ঘৃণিত কাতার বিশ্বকাপ কভার করতে গিয়ে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন দেশটির সাংবাদিকরা। চরম এই বাস্তবতা স্বীকার করেছে দেশটির একটি সংবাদবাদমাধ্যম দৈনিক ইয়াদিউত অহরোনুত। খবর আল-মায়াদিন ও জেরুজালেম পোস্ট।

palestine supporterকাতার বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের সমর্থক

কাতার বিশ্বকাপের খবরাখবর সংগ্রহ করতে তাদের সাংবাদিকদের বিভিন্ন অনুভূতি, অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এ কথা প্রকাশ করে ওই দৈনিকটি। পত্রিকাটি জানায়, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেবল ইসরায়েলি শাসক বা সরকারের প্রতিই নয় বরং সাধারণ ইসরায়েলিদের প্রতিও আরব জনগণের রয়েছে তীব্র ঘৃণা। আর তার প্রকাশ পাচ্ছে রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন অলি-গলিতেও। ফিলিস্তিনি, ইরানি, কাতারি, সিরিয়ান, জর্দানি, মিশরীয়, লেবানিজসহ প্রায় প্রত্যেকের আমাদের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায়।

এ অবস্থায় সংবাদ বা সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে বড় সংকটের মুখে আছে ইসরায়েলি সাংবাদিকরা। কারণ তাদের পরিচয় জানার পর কেউ তাদের সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয় না, খবরের ব্যাপারে তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে রাজি হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তারা পরিচয় গোপন করে তাদের কাজ সারছেন। পরিচয় প্রকাশ পেয়ে গেলেই তীব্র ঘৃণা ও অসহযোগিতার মুখে পড়ছেন তারা।

qatar and palestineকাতার আর ফিলিস্তিন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে

ইসরায়েলি সাংবাদিকরা জানান, দোহায় দশ দিন থাকার পর, আমরা এখানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি তা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমরা কৃত্রিমভাবে সবকিছু সুন্দর দেখাতে চাই না। কারণ আমরা এখানে তীব্র ঘৃণা অনুভব করছি। আমাদের মনে হয় আমরা আমাদের শত্রুদের মধ্যে আটকা পড়েছি। এখানে কেউ আমাদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানায় না।

ব্রাজিলের খেলা দেখার পর নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন তারা। বলেন, খেলার পর, আমরা যখনই উল্লসিত ব্রাজিলিয়ানদের ছবি তোলার চেষ্টা করেছি, তখনই ফিলিস্তিনিরা আমাদের ঘিরে রেখেছে, ফিলিস্তিনি পতাকা নেড়েছে, চিৎকার করছে এবং আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। এমনকি ফিলিস্তিনি বা কাতারিরা কিছুক্ষণ পর পর ছবি তুলে আমাদের নিয়ে মজা করেছে।

এমনও হয়েছে, আমরা আমাদের নিজেদের পরিচয় পাল্টে ইকুয়েডরের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছি। একদল ইরানি নারী সমর্থক আমাদের পরিচয় পেয়ে ঘটনাটি শারীরিক সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়াতে পারে আশঙ্কা থেকে আমরা এ কাজ করতে বাধ্য হই।

ইয়াদিউত অহরোনুতের সাংবাদিক রাজ শেচনিক জানান, কাতারে গিয়ে তারা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন, তাদের প্রতি আরব দেশগুলোর জনগণের বিদ্বেষ কতটা। সৌদি আরবের একজন ফুটবল দর্শক দোহায় জায়োনিস্ট কান চ্যানেলের ইসরায়েলি প্রতিবেদককে ক্ষোভের সাথে বলেছিলেন, এটি ফিলিস্তিন, এটি কাতার। এখানে ইসরায়েলের কোনো জায়গা নেই। এখানে জায়গা আছে শুধু ফিলিস্তিনেরই। কিছুক্ষণ পর হিজাব পরা এক নারী দর্শকও একই রকম অনুভূতির প্রতিধ্বনি করেছিলেন।

এমনকি মরক্কোর এক নাগরিকও তাকে এভাবে বলতে থাকলে রাজ শেচনিক তাকে মনে করিয়ে দেন, আরবদের সাথে আমাদের চুক্তি হচ্ছে। আমাদের মধ্যে শান্তি আছে। কিন্তু তার এ প্রচেষ্টায় কোনো লাভ হয়নি। বরং আরব, ব্রাজিলিয়ান ও কোরিয়ান সমর্থকদের কাছ থেকে রাজ একই ধরনের আচরণ পেয়েছিলেন।

রাজ জানান, খেলার সংবাদ কভার করার সময় তিনি নিজেকে অবাঞ্ছিত বোধ করছিলেন। একজন কাতারি নাগরিক তাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশত্যাগের পরামর্শ দেন। তিনি রাজকে এ-ও বলেন, সত্যিই তিনি কাতারে স্বাগত নন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর