আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনীর আহমদ। পাকিস্তান ফ্রন্টিয়ার কোর, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর ও সেনাসদরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালনকারী আসিম মুনীর কেবল দক্ষ সৈনিক ও কমান্ডার নন, তিনি একজন হাফেজ-এ-কুরআন। নতুন সেনাপ্রধানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরকালে এ কথা জানিয়েছেন বিদায়ী সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। খবর ডন ও বোল নিউজ।

pakistan army commandকমান্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ও জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনীর

আজ সকালে রাওয়ালপিন্ডির সেনাসদরে আনুষ্ঠানিকভাবে আসিম মুনীরের কাছে কমান্ড ব্যাটন হস্তান্তর করেন জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ গত সপ্তাহে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে আসিম মুনীরকে মনোনীত করেন। রেডিও পাকিস্তানের তথ্য মতে, আসিম মুনীর হলেন পাকিস্তানের ১৭তম সেনাপ্রধান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রীতির খানিকটা ব্যত্যয় ঘটিয়ে সেনাপ্রধান নিয়োগ করা হলো জেনারেল বাজওয়ার ঘনিষ্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরোধী হিসেবে পরিচিত এ কর্মকর্তাকে।

চাকরির বয়স অনুযায়ী আসিম মুনীর গত ২৭ নভেম্বর রোববার অবসরে যাবার কথা ছিল। বিষয়টিকে পাশ কাটাতে গত সপ্তাহে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চার-তারকা জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। রাওয়ালপিন্ডিতে আজকের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাকে সেনাপ্রধান নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলো।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার্স ট্রেইনিং স্কুলের মাধ্যমে সৈনিক জীবন শুরু করেন আসিম মুনীর। সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টে তিনি কমিশন প্রাপ্ত হন। বিদায়ী সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া এক্স কোরের কমান্ডার থাকাকালে তার অধীনে ব্রিগেডিয়ার হিসেবে উত্তরাঞ্চলীয় ফোর্সের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন আসিম মুনীর। সেখান থেকেই দুইজনের ঘনিষ্টতা শুরু।

বাজওয়া সেনাপ্রধান হবার পর আসিম মুনীরকে ২০১৭ সালের শুরুতে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর পদে নিয়োগ দেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে তিন-তারকা জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরের মাসেই তাকে আইএসআই প্রধান পদে নিয়োগ করা হয়। তবে আট মাসের মাথায় তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে গুজরানওয়ালা কোরের কমান্ডার নিয়োগ করেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ওই পদে দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর তাকে কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল হিসেবে সেনাসদরে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তিনি আজ সেনাপ্রধান হলেন।

সেনাসদরে কমান্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আসিম মুনীরের ভূয়ষী প্রশংসা করেছেন তার পূর্বসুরী বাজওয়া। তিনি বলেন, জেনারেল মুনীরের সঙ্গে আমার ২৪ বছরের সম্পর্ক। তিনি একজন হাফেজ-এ-কুরআন এবং একইসঙ্গে পেশাদার, দক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ অফিসার। আমার বিশ্বাস তার নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অর্জনের নতুন উচ্চতা ছুঁয়ে যাবে। আশা করি সেনাপ্রধান হিসেবে তার নিয়োগ সেনাবাহিনী ও দেশের জন্য ইতিবাচক হবে। আমি একজন দক্ষ ও সামর্থ্যবান সন্তানের কাছে কমান্ড হস্তান্তর করছি।

এর আগে বিদায়ী ও নতুন সেনাপ্রধান একসঙ্গে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও ফাতেহা পাঠ করেন। সেনাবাহিনীর ব্যান্ডদল এ সময় পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত ও অন্যান্য লোকজ সুরে বাদ্য বাজাচ্ছিল। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ছাড়াও পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আসিম মুনীরের নিয়োগের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ছয় বছরের বাজওয়া যুগের অবসান হলো। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত ও ঝঞ্জা-বিক্ষুব্ধ সময় বলতে হবে বাজওয়া যুগকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের চড়াই-উতরাই, পানামা পেপারস লিককে ঘিরে নওয়াজ শরীফ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ, সন্ত্রাসবাদ দমন কৌশল নিয়ে পাকিস্তানি দৈনিক ডনে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনকে ঘিরে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি, ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটাতে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য দেশজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের চোখে সেনাবাহিনীর সম্মানহানি ও নিন্দা-- সব মিলিয়ে নতুন চেহারায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে রেখে গেছেন কামার জাভেদ বাজওয়া।