আপনি পড়ছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, আমদানির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ওভার ইনভয়েসিং (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) হচ্ছে। এক একটা ইনভয়েসে ২০ থেকে ২০০ শতাংশ ওভার ইনভয়েসিং করা হয়।

abdur rouf talukderবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিআইডিএস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের এসব কথা বলেন গভর্নর। আমদানিতে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ মানে হল অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।

পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ করা হয়। এ সময় ইনভয়েসে যে পরিমাণ টাকা কম দেখানো হয়, তা বিদেশে রপ্তানিকারকের পক্ষের কেউ বুঝে নেয়। এভাবে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন অর্থনীতিবিদরা।

এছাড়া আমদানি-রপ্তানিতে মিস ইনভয়েসিং বা অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমেও প্রতি বছর বড় অংকের অর্থ পাচার হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য মতে, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মিস ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৮০৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

গভর্নর আবদুর রউফ বলেন, পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিং বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে।

বছর খানেক ধরে আমদানি বৃদ্ধির বিপরীতে কমে যায় রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের আগস্টে থাকা ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়নে।

ঘাটতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এপ্রিল থেকে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি আরোপ করতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কড়াকড়ির পর ব্যবসায়ীদের অনেকে অভিযোগ করছেন, আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে দেওয়া হচ্ছে না বৈদেশিক ‍মুদ্রার সংকটে।

এ বিষয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘বলা হচ্ছে আমরা এলসি বন্ধ করে দিচ্ছি, এটা সত্য নয়। আমরা কোনো এলসি বন্ধ করিনি। আমরা ‘প্রাইস কন্ট্রোল’ (মূল্য নিয়ন্ত্রণ) করছি। যাতে সঠিক দরে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। বিলাসী পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে মাত্র। কারণ হচ্ছে, আপাতত এসব বিলাসী পণ্য কম এলেও কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ও কম মূল্য দেখিয়ে করতে চাওয়া এলসি বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে তা সংশোধন করে প্রকৃত দরে আমদানি করতে চাইলে ব্যবসায়ীরা এলসি করতে পারছেন।