আপনি পড়ছেন

ঘুষ নেওয়া অন্যায়। সব দেশের আইনে একই কথা বলা আছে। আবার নৈতিকতার দিক দিয়েও ঘুষের অর্থ অন্যায্য। ফলে ঘুষের টাকা না ধরাই ভালো। তবে এর অন্য অর্থ করেছেন ভারতের হাইকোর্টের এক কর্মী। তিনি ঘুষের অর্থ হাতে না নিয়ে ডিজিটাল ভাবে নেওয়ার এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। তবে দুর্ভাগ্য, তার এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সাসপেন্ড হতে হয় তাকে।

elahabad highcoartজমাদারের কোমরে গোঁজা কিউআর কোড

ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক জমাদারকে সাসপেন্ড করেছেন। ওই জমাদার ঘুষ নেওয়ার অনন্য এক পদ্ধতি বের করেছিলেন। ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্নজনকে নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা দিলেও সে টাকা ছুঁয়েও দেখতেন না তিনি। বরং কোমরের বেল্টে গুজে রাখা কিউআর কোড ব্যবহার করে ঘুষের পয়সা নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করতেন।

আসলে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া নিয়ে কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় অভিনব ওই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন দায়িত্বপালনকারী জমাদার। তার কাছে যারা আসতো, সবাইকে তিনি বলে দিতেন, তাকে টাকা দিতে হলে সেটা কিউআর কোড ব্যবহার করেই দিতে হবে। বাধ্য মক্কেলরাও তার কথা মেনে চলতো।

মক্কেলদের সুবিধার্থে তিনি তার কোমরেই পেটিএমের একটি কিউআর কোড গুজে রাখতেন। সবাই সেটা স্ক্যান করে তার দাবি মেটাতো। তবে সম্প্রতি তার সেই কীর্তি বাইরে প্রকাশ হয়ে গেলে বিপদে পড়েন তিনি। একটি ছবিতে দেখা যায়, তার কোমরে গোঁজা সেই কিউআর কোড স্ক্যান করছেন একজন আইনজীবী।

ওই ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেলে পুরো বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন আদালত। ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালকে চিঠি লেখেন আরেক বিচারপতি অজিত কুমার। এর পরেই অভিযুক্ত ওই জমাদারকে সাসপেন্ড করা হয়। গত মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আশিস গর্গ। অভিযুক্ত জমাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিটিতে জানানো হয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর