আপনি পড়ছেন

রাশিয়ার মূল্যছাড়ের জ্বালানি তেল আপাতত কিনছে না বাংলাদেশ। মস্কোর তেল সরবরাহের প্রস্তাব বাতিল করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। প্রযুক্তি, আর্থিক ও কূটনৈতিক কারণে এ প্রস্তাব বাতিল করতে হয়েছে বলে জানিয়ছেন কর্মকর্তারা।

bpcবাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার এই তেল আমদানি করতে পারলে জ্বালানি খরচ ও রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু রাশিয়ার প্রস্তাব বাদ দিয়ে অন্যভাবে জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে বিপিসি।

টাইমস অভ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশাল মূল্যছাড়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি করে চীন ও ভারত। ধারনা করা হচ্ছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে ভারত প্রায় ৪৩৩.৬৭ মিলিয়ন সাশ্রয় করেছে।

বিপিসির পরিচালক খালিদ আহমেদ বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে আমরাও আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু রাশিয়ার তেলে সালফারের পরিমাণ বেশি, তাছাড়া এর মূল্য পরিশোধেও নানা জটিলতা আছে, তাই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর কমে যায় রাশিয়ার তেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম দামে রাশিয়ার তেল কিনতে শুরু করে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ। গত মার্চে বাংলাদেশকেও তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ার তেলে অতিরিক্ত সালফার থাকার কারণে তা যানবাহনে ব্যবহার করলে কালো ধোঁয়া তৈরি হবে। তাই আপাতত এ তেল আমদানির পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটি জানিয়েছে, তেল আমদানি করতে যে পরিমাণ রুশ রুবল লাগবে, তা বাংলাদেশের কাছে নেই। যদিও মূল্য পরিশোধে জন্য পরবর্তীতে মার্কিন ডলারের নামও প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়ার তেল কিনলে বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কেমন প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনায় ওই প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়া হয়।