আপনি পড়ছেন

নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের পর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে আসেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়, অভিযান চলছে, কার্যালয়ের ভেতরে বিস্ফোরক আছে, এখন আপনাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরপর কার্যালয়ের সামনেই বসে পড়েন মির্জা ফখরুল।

mirza fakhrul islam alamgir 15মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

৭ ডিসেম্বর, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ের সামনে বসে ছিলেন। এরপর তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন।

কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার আগে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কার্যালয়ের ভেতরে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। পুলিশই ব্যাগে করে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি নিয়ে কার্যালয়ের ঢুকেছে।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ফেলছে তারা। পুলিশ আমাদের কার্যালয় থেকে সিসিটিভি, হার্ডডিস্ক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সব নিয়ে গেছে। যাতে হামলার কোনো আলামত না থাকে। তারা অফিসের মধ্যে ঢুকে সবকিছু ভাঙচুর করেছে। একাত্তরের হানাদার বাহিনীর মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে বিএনপি নেতা রিজভী, এ্যানি, আমান, শিমুল বিশ্বাস, খায়রুল কবির খোকন রয়েছেন। তাদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যায় পুলিশ।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় একজন নিহত হন। নিহতের নাম মকবুল আহমেদ।

এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জনকে ঢামেক হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে মকবুল আহমেদ মারা যান।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুরের দিকে বেশ ভিড় দেখা যায়। বেশি ভিড় হয়ে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।

একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে।

এ সময় অনেকে আহত হন। আহতরা হলেন- বোরহান উদ্দিন কলেজ ছাত্রদলের কর্মী আনোয়ার ইকবাল, পল্টন থানা যুবদলের কর্মী মো. খোকন, মো. মনির হোসেন, মো. রাশেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলের ছাত্রদল নেতা মো. ইয়াসির আরাফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতা মো. সুমন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. জহির হাসান, রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. শামীম, কদমতলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. হানিফ, মো. হৃদয়, মো. মকবুল হোসেন।

মতিঝিল জোনের ডিসি হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ‘পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভিড় করলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা তাদের সরে যেতে অনুরোধ করি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর