আপনি পড়ছেন

বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে চলছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত। দখলদার ইসরায়েলিদের অত্যাচারে নিজ ভূমিতেই পরাধীন হয়ে আছেন ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু তারপরও পুরো বিশ্ব যেন আছে ফিলিস্তিনের পাশেই। এই বিশ্বকাপে বিষয়টি যেন বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এই টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচেই বিষয়টি সামনে তুলে নিয়ে আসছেন মরোক্কানরা।

morocco palestine flagফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে বিজয় উদযাপন করছে মরক্কোর খেলোয়াড়েরা

যেসব মুসলিম রাষ্ট্রের সরকারের সাথে ইসরায়েলিদের দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে, তার অন্যতম হচ্ছে এই মরক্কো। দেশটির রাজ পরিবার সব সময়ই ইসরায়েলের শুভাকাঙ্ক্ষী। সেই ষাটের দশক থেকে ইসরায়েলের সাথে গোপন সম্পর্ক চালিয়ে আসছে তারা। সে সময় থেকেই মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের অফিস বসিয়ে রীতিমতো তাদের সব ধরনের অপকর্মের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের হাতে আরবদের পরাজয়ের পেছনে এই মোসাদকে দায়ী করা হয়, সেই সাথে দায়ী করা হয় মরক্কোর রাজ পরিবারকে। কিন্তু তাতে তাদের আচরণ পাল্টায়নি।

রাজনৈতিক কারণে হোক বা চক্ষু লজ্জার কারণে, খুব কম সংখ্যক আরব দেশই বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করছে। তবে সেই কম সংখ্যকদের মধ্যে অন্যতম মরক্কো। সামান্য যে কয়টি মুসলিম দেশ ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদেরকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা দিয়ে থাকে, মরক্কো তাদের অন্যতম।

qatar stadium palestine flagকাতারের স্টেডিয়ামে উপস্থিত ফিলিস্তিন

তবে মরক্কোর সাধারণ মানুষের মনোভাব পুরোপুরি উল্টো। কাতার বিশ্বকাপে এর ভালো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মরক্কোর প্রায় প্রতিটি ম্যাচে সমর্থকরা নিজ দেশের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে আসছেন। সুযোগ পেলেই তারা সে পতাকা উড়াচ্ছেন। ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিন বলে গলা ফাটাচ্ছেন। এমনকি গ্রুপপর্বে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচেও পতাকা উড়িয়ে জয় উদযাপন করেছিলেন মরোক্কান ফুটবলাররা। নক আউট পর্বে টাইব্রেকারে স্পেনকে ৩-০ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় মরক্কো। নিজেদের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই তাদের সেরা রেকর্ড।

ইতিহাস গড়া সেই দিনেও মরোক্কান খেলোয়ারদের উদযাপনে সঙ্গী হয়েছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে জয় উদযাপন করেন মরক্কোর ফুটবলাররা। যেন বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছেন, আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিন চাই।

ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ানোর কারণে ফিফা মরক্কোকে জরিমানাও করতে পারে। কারণ বিশ্ব ফুটবল সংস্থার আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ করার জন্য স্টেডিয়ামে কোনো ধরনের পতাকা বা ব্যানার প্রদর্শন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। অতীতে এই পতাকা উড়ানোর কারণে অনেক দল জরিমানার মুখোমুখি হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত অবশ্য তেমন কিছুই ঘটেনি।

তবে শুধু মরক্কোর ফুটবলার বা সমর্থক নয়, অন্যান্য মুসলিম দেশের খেলোয়াড় ও দর্শকরাও ফিলিস্তিনের হয়ে আওয়াজ তুলছেন। এমনকি অমুসলিম বিভিন্ন দেশ থেকে আগত সমর্থক-দর্শকরাও যেভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে, ইসরায়েলিদের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, তাতে বিপাকে পড়েছে কাতারে আসা ইসরায়েলিরা।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর