আপনি পড়ছেন

ক্ষমতায় থাকাকালে জার্মানির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করায় আফসোস করছেন দেশটির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। তিনি বলেন, আমরা প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছি। তারপরও জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ন্যাটো নির্ধারণ করেছিল, আমরা তা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছি। এখন বুঝতে পারছি, সামরিক শক্তি কম থাকার কারণেই রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আমরা দুর্বল অবস্থানে ছিলাম। জার্মান দৈনিক ডি জেইটের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ম্যার্কেল এসব কথা বলেন। খবর দ্য টেলিগ্রাফ। 

angela merkel 29 10 2018জার্মান দৈনিক ডি জেইটের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের শাসনকালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল

সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, রাশিয়া যেহেতু সন্তুষ্ট ছিল না তাই প্রকৃত অর্থে স্নায়ু যুদ্ধের অবসান হয়নি। আমরা বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলাম। স্নায়ু যুদ্ধের অবসান ঘটেছে ভেবে আমরা প্রতিরক্ষা ব্যয় কমিয়ে দিয়েছি। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পর আমরা সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াই। কিন্তু সেটা ন্যাটো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। বিষয়টি পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করেছিল।

নিজের আমলে অনুসৃত জ্বালানি নীতি রাশিয়ার গ্যাসের ওপর জার্মানির নির্ভরতা বাড়িয়েছে এমন অভিযোগ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ম্যার্কেল বলেন, বিকল্প জ্ব লানি কিনতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যেত। তাছাড়া এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নিত না। রাশিয়ার সঙ্গে নর্দস্ট্রিম-২ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া উচিত হয়নি বলে যারা দাবি করছেন, তারা ভুল বলছেন। জার্মানি তখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল। এ অবস্থায় নর্দস্ট্রিম- প্রকল্প বাদ দিলে আস্থার অবনতি হতো। তাছাড়া প্রকল্পটি আমাদের দরকার ছিল।

জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর হিসেবে ২০০৫ সালে ক্ষমতারোহন করেন ম্যার্কেল। গত ডিসেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় বরাবরই জনমত জরিপে ম্যার্কেরের গ্রহণযোগ্যতা প্রবল ছিল। তবে মেয়াদের একেবারে শেষের দিকে যখন রাশিয়ার দিক থেকে ইউক্রেন দখলের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছিল, তখন জার্মানির অনেকেই প্রতিরক্ষা খাতে মেরকেল যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছে কিনা, সে প্রশ্ন তোলেন।

ম্যার্কেলের উত্তরসূরি ওলাফ শোলজ ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পরপর জার্মান সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। জুন মাসে জার্মান পার্লামেন্ট ১০ হাজার কোটি ইউরোর একটি প্রতিরক্ষা তহবিল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।