আপনি পড়ছেন

উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেন কাটছেই না। গেল বছরের অক্টোবরে মন্ত্রিসভা গঠনের মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ফের পদত্যাগ করেছে দেশটির সরকার। আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। খবর আল জাজিরা।

kuwaiti governmentকুয়েতে সংসদ অধিবেশন

সোমবার দেশটির ক্রাউন প্রিন্সের কাছে মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমেদ নাওয়াফ আল-সাবাহ। আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনের কথা ছিল।

গত অক্টোবরে শপথ নেওয়ার সময় ঋণ ত্রাণ বিল নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে মতবিরোধ হয় মন্ত্রীসভার সদস্যদের। ঋণ ত্রাণ বিলে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্র নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণ কিনবে। সেইসঙ্গে দুই মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল আইনপ্রণেতারা। এর জেরেই পদত্যাগ করেছে দেশটির সরকার।

মন্ত্রিসভার একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, 'মন্ত্রিসভার সমস্য এবং আইন প্রনেতাদের মধ্যে সম্পর্ক অবনতি হওয়ায় এ পদত্যাগ।' ক্রাউন প্রিন্সের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদের আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান এমপি শুয়াইব আল-মুওয়াইজরি গেল রোববার এক টুইট বার্তায় বলেন, 'সরকার যতক্ষণ না মজুরি, পেনশন এবং সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য বিকল্প উপায় উপস্থাপন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ ত্রাণ টেবিলে থাকবে।'

তেল-উৎপাদনকারী উপসাগরীয় দেশটি কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে একটি ঋণ আইন রয়েছে যা রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু আইনী জটিলতায় তা আটকে আছে।

রাজনৈতিক টালমাটালের কারণে বছরের পর বছর ধরে কুয়েতে বিনিয়োগ এবং সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে দেশটি তেলের রাজস্বের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। দেশেটিতে একটি কল্যাণ ব্যবস্থা এবং পাবলিক সেক্টর রয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিককে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কুয়েতে সরকার নিয়োগ করে রাজপরিবার। তবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হন আইনপ্রণেতারা। অন্য দেশের তুলনায় তারা অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেন। মন্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আইন পাস ও আটকে দেওয়ার ক্ষমতা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের ডাক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর