আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ তিনি থামিয়ে দিয়েছেন। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেখানে ট্রাম্প তাকে ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় জেনারেল’ এবং ‘ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের মতে, তার মধ্যস্থতায় প্রায় এক কোটি বা তার বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে, যা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান উভয়েই স্বীকার করেছেন।

আসিম মুনির

গত জুন মাস থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ বার আসিম মুনিরের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে অক্টোবরে মিসরের শারম আল-শেখ শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতেই মুনিরকে ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন তিনি। গত ২২ ডিসেম্বর ফ্লোরিডায় নিজের নামে যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি এ পর্যন্ত আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন, যার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত অন্যতম।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতই ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এপ্রিল মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মিরে এক হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে ৭ মে ভারতের বিমান হামলার জবাবে পাকিস্তান ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে এবং ১০ মে উভয় দেশ একে অপরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেপথ্য কূটনৈতিক তৎপরতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। ভারত বিষয়টিকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলাফল দাবি করলেও, ট্রাম্প গত কয়েক মাসে অন্তত অর্ধশতবার দাবি করেছেন যে তিনিই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করিয়েছেন। পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী খুররম দস্তগীর খানের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারতের অনাগ্রহই আসিম মুনির ও শাহবাজ শরিফকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ করে দিয়েছে।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানকে ‘মিথ্যাবাদী ও প্রতারক’ বললেও দ্বিতীয় মেয়াদে তার কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। গত মার্চে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তিনি ২০২১ সালে কাবুল বিমানবন্দরে অ্যাবে গেট বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য পাকিস্তানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। এই পরিবর্তিত সম্পর্ক আসিম মুনিরকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে একজন ‘সৈনিক-কূটনীতিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ছাড়িয়ে ক্রিপ্টো মাইনিং ও খনিজ সম্পদের মতো অর্থনৈতিক বিষয়েও আলোচনা করছে ইসলামাবাদ।

মে মাসের সংঘাতের পরপরই আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ঘটেছে। এরপর ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদ সৃষ্টি করে নৌ ও বিমানবাহিনীকেও তার প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বের অধীনে আনা হয়। যদিও বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করছে, তবুও বিশ্লেষকরা একে সামরিক বাহিনীর সংহতি ও সংস্কারের অংশ হিসেবেই দেখছেন। এছাড়া বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধি হিসেবে ইসহাক দার ঢাকা সফর করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুনির যখন সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করছেন বা গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বেশ জটিল। ২০২৫ সালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সহিংসতা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মারিয়া রশিদের মতে, মে মাসের সংঘাত মুনিরকে ভারতের বিরুদ্ধে সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ দিয়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই কূটনৈতিক সাফল্যের আড়ালে ইমরান খানের কারাবাস, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকর বিষয়গুলোকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.