২৭ বছরে ইউরো, নতুন সদস্য বুলগেরিয়া
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ২১টির সরকারি মুদ্রা ইউরো। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে (১ জানুয়ারি) এই মুদ্রাটির বয়স ২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। একই দিনে নতুন বছরের শুরুতেই ইউরোজোনের নতুন সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরো গ্রহণ করেছে বুলগেরিয়া।

১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি ইউরো কার্যকর হলেও দৈনন্দিন লেনদেনে এর ব্যবহার শুরু হয় তিন বছরের ট্রানজিশন পিরিয়ড বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পর। ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সদস্য দেশগুলোতে ইউরোর নোট ও কয়েন প্রচলিত মুদ্রার জায়গা দখল করে নেয়। বর্তমানে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, এস্তুনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া এবং স্পেনে সরকারি মুদ্রা হিসেবে ইউরো ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইউরোজোনে বুলগেরিয়ার প্রবেশ:
ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) এবং ইইউর অর্থমন্ত্রীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বুলগেরিয়া ইউরো গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২০০৭ সাল থেকে ইইউর সদস্য থাকা দেশটি ১ জানুয়ারি ইউরোজোনে যোগদান করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে ইউরো চালু করে। যেসব ইইউ সদস্য রাষ্ট্র প্রধান মুদ্রা হিসেবে ইউরো ব্যবহার করে, তাদের নিয়েই ইউরোজোন গঠিত। এই অঞ্চলের মুদ্রানীতি পরিচালনা করে ‘ইউরোসিস্টেম’, যা ইসিবি ও সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত।
ইসিবির ভূমিকা ও মুদ্রার ব্যবহার:
ইসিবির মূল লক্ষ্য হলো ইউরোজোনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ব্যাংকের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য হলো মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। ব্যাংকগুলোর তদারকি, আর্থিক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোর নোট ছাপানোর পাশাপাশি কার্ড বা অনলাইন পেমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে ইসিবি। একইসঙ্গে ক্রিপ্টো সম্পদ নিয়েও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।
বর্তমানে ইউরোপে ৩৫ কোটিরও বেশি মানুষ ইউরো ব্যবহার করেন। বাজারে ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০ ও ২০০ ইউরোর নোট প্রচলিত আছে। এছাড়া ১, ২, ৫, ১০, ২০ ও ৫০ ইউরো সেন্ট এবং ১ ও ২ ইউরোর কয়েনও ব্যবহৃত হয়। সন্ত্রাসবাদ ও অর্থ পাচার রোধে ২০১৯ সালে ৫০০ ইউরোর নোট ছাপানো বন্ধ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে এই নোট আর ব্যবহৃত হয় না, তবে ব্যাংকে জমা দেওয়া বা পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।
অন্যান্য দেশের অবস্থান:
ডেনমার্ক ছাড়া ইইউর অন্য সব সদস্য রাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ইউরো গ্রহণে বাধ্য। তবে ডেনমার্ক সব অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ করলেও একটি গণভোটের মাধ্যমে ইউরো প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজস্ব মুদ্রা বজায় রেখেছে। এছাড়া হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং সুইডেন এখনও ইউরো গ্রহণ করেনি। এই দেশগুলো স্বাধীনভাবে নিজস্ব মুদ্রানীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
উত্থান-পতন ও বিনিময় হার:
১৯৯৯ সালে চালুর সময় ১ ইউরোর মান ছিল ১.১৭ মার্কিন ডলার। তবে শুরুর দিকে ডলারের বিপরীতে এর মান দ্রুত কমতে থাকে এবং ২০০০ সালের অক্টোবরে তা ০.৮৩ ডলারে নেমে আসে। ২০০২ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ইউরো ঘুরে দাঁড়ায় এবং ২০০৮ সালে ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১.৬০-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে এর মান আবারও কমতে শুরু করে।
২০২৫ সালের শুরুতে ইউরো ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১.০৩, যা ডিসেম্বরের শেষের দিকে ১.১৮-এ পৌঁছায়। ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রিজার্ভ কারেন্সি বা সঞ্চিত মুদ্রা হিসেবে ডলারের (৫৮%) পরেই ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরো।
ঋণের উচ্চ বোঝা:
ইউরোজোনভুক্ত দেশগুলো বর্তমানে বড় অঙ্কের ঋণের চাপে রয়েছে। এই অঞ্চলে মোট ঋণের পরিমাণ ১৩.৬ ট্রিলিয়ন ইউরোতে (১৫.৯ ট্রিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে। গত এক বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৫৭৮ বিলিয়ন ইউরো। জিডিপির তুলনায় ইউরোজোনের ঋণের হার গত বছরের ৮৭.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে এ বছর ৮৮.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গ্রিসের ঋণের হার জিডিপির তুলনায় সর্বোচ্চ ১৫১.২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইতালি (১৩৮.৩%), ফ্রান্স (১১৫.৮%), বেলজিয়াম (১০৬.২%), স্পেন (১০৩.৪%), পর্তুগাল (৯৬.৮%) এবং ফিনল্যান্ড (৮৮.৪%)। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ইইউ সদস্য দেশগুলোর সরকারি ঋণ তাদের জিডিপির ৬০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ বছর ধরে ঋণের বোঝা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারায় এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.