আপনি পড়ছেন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনায় সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। শনিবার সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধকরণ এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাসহ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয়টি জানায়, কারাকাসের পরিস্থিতির ওপর তারা নজর রাখছে এবং সেখানে ‘কোনো সুইস নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, তার সরকার পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি এই অনিশ্চিত সময়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি সতর্ক করে বলেছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র ও তার প্রতিনিধির ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন, তা ওই দেশের শাসনব্যবস্থা যেমনই হোক না কেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড এমন নজির স্থাপন করে যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলকেও অস্থিতিশীল করতে পারে।’

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন ঘটনাটিকে ‘নাটকীয়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অবশ্যই মানতে হবে।’ মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়, রাসমুসেন উত্তেজনা হ্রাস এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর আন্ড্রেয়াস বাবলার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘এই হামলা জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধকরণ নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এটি স্পষ্টভাবে বলা আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়। আমাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে।’ তিনি মন্তব্য করেন যে, ইউরোপ দেখছে বিশ্ব ‘ভূ-রাজনৈতিকভাবে পেছনের দিকে’ যাচ্ছে এবং চোখের সামনে আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। তিনি রাজনৈতিক পদ্ধতি হিসেবে ‘জঙ্গলের আইন’ প্রত্যাখ্যান করার ওপর জোর দেন।

আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএনটি জানিয়েছেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং জাতিসংঘের সনদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি এক্সে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মাদুরোর কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই বলে আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, তবে আমরা সর্বদা ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে এসেছি এবং সেই লক্ষ্যে সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছি।’

স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নয় এমন যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ‘অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বকে যুদ্ধ ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আর কোনো যুদ্ধ চাই না। আমরা বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত এবং নির্দোষ মানুষের ভোগান্তি চাই না।’ তিনি এক্সে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ভেনেজুয়েলার জন্য একটি গণতান্ত্রিক পথের সমর্থনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট মন্তব্য করেছেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ একটি গণতান্ত্রিক ও বৈধ শাসন ব্যবস্থার দাবিদার, যা মাদুরোর শাসনামলে অনুপস্থিত ছিল। তিনি এক্সে বলেন, ‘মাদুরোকে তার কাজের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। একই সময়ে, বেলজিয়াম যেমনটি অবিরাম বলে আসছে, সব পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।’ তিনি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার আহ্বান জানান।

পর্তুগাল সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত পর্তুগিজ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মঙ্গল তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি না দিলেও দেশটি দ্রুততম সময়ে গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা ফিরে আসার পক্ষে এবং উত্তেজনা হ্রাস ও জাতিসংঘের সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে শনিবার ভেনেজুয়েলা সরকার অভিযোগ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক রাজ্যে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ‘বড় ধরনের’ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ‘আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

মাদক পাচারের অভিযোগে ওয়াশিংটন দীর্ঘ দিন ধরে মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। যদিও ভেনেজুয়েলার নেতা তা অস্বীকার করে আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, তারা মাদুরোর অবস্থান সম্পর্কে ‘অবহিত নন’ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে প্রেসিডেন্টের ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.