আপনি পড়ছেন

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দিতে পারে এমন যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সুদানের সার্বভৌমত্ব কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা আমজাদ ফরিদ এলতাইয়েব আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, তারা তাদের জনগণকে আরএসএফের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার হাতে তুলে দিতে পারবেন না এবং একই সঙ্গে লিবিয়ার মতো বিভাজনও মেনে নেবেন না।

আরএসএফের নিয়ন্ত্রণ বৈধ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সুদানের
সুদানের একটি শহরের আকাশে উড়ছে কালো ধোঁয়া

এলতাইয়েব জানান, উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল ওবেইদ এখন সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশেরে আরএসএফ যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তারা এল ওবেইদেও তার পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এল ফাশেরের চেয়ে তিনগুণ বড় এল ওবেইদে সুদানি সরকারি বাহিনী আরএসএফের হামলা প্রতিহত করায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এই সংঘাতকে গৃহযুদ্ধ বা সমান দুই পক্ষের লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। একে তিনি সুদানের রাষ্ট্র, সরকার, জনগণ ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট মিলিশিয়াদের হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এলতাইয়েব বলেন, ‘আমাদের জনগণ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং তারা প্রতিরোধ করছে।’

সুদানের সেনাবাহিনী এল ওবেইদে হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। প্রচলিত লড়াইয়ের বাইরে তিনি আরএসএফের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সরবরাহ করা উন্নত ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আরএসএফকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এলতাইয়েব বলেন, সুদানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তিনি যুক্তি দেন, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ বর্তমান সামরিক পরিস্থিতিকে ‘স্থবির’ করার চেষ্টা করছে, যা কার্যত বেসামরিক এলাকার ওপর আরএসএফের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রস্তাব মেনে নিতে পারি না যা বেসামরিক এলাকায় আরএসএফের দখলদারিত্বকে বৈধতা দেবে, কারণ এর অর্থ হলো সুদানের জনগণকে আরএসএফের কাছে জিম্মি করে রাখা।’

সুদান কেবল তখনই যুদ্ধবিরতি বা শান্তি উদ্যোগ বিবেচনা করবে যখন বেসামরিক এলাকা থেকে আরএসএফ বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করা হবে। দেশের বিভাজন জড়িত থাকে এমন যেকোনো পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তুরস্ককে সুদানের বিষয়ে নীতিগত অবস্থান গ্রহণকারী হাতেগোনা কয়েকটি দেশের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেন এলতাইয়েব। আঙ্কারা ধারাবাহিকভাবে দেশটির বৈধ কর্তৃপক্ষকে সমর্থন জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তুর্কি সরকার নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করেছে। তারা বোঝে যে সুদানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি সুদানের জনগণের ওপর নির্ভর করে।’

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুদানের সেনাবাহিনী আরএসএফের কাছ থেকে খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর পুনর্গঠন প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ রাজধানীতে ফিরেছে।

মানবিক সহায়তার বিষয়ে এলতাইয়েব জানান, মূল চ্যালেঞ্জ সেখানে পৌঁছানো নয়, বরং তহবিলের অভাব। ২০২৪ সালে প্রয়োজনীয় তহবিলের ৩০ শতাংশেরও কম পাওয়ার পর, ২০২৫ সালে সুদানের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সাড়া প্রদান পরিকল্পনা ৫০ শতাংশেরও কম তহবিল পেয়েছে। তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ মানবিক সহায়তা তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো দেশগুলো থেকে এসেছে।

এলতাইয়েব বলেন, ‘সুদানে যা ঘটছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে ভাবতে, নতুন নকশা করতে এবং পরিবর্তন আনতে হবে।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.