ফের শাটডাউনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রেকর্ড ৪৩ দিনের সরকারি অচলাবস্থা বা শাটডাউনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও শাটডাউনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যয় সংকোচন এবং স্বাস্থ্যসেবা নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে ওয়াশিংটনে নতুন করে এই আর্থিক সময়সীমার সংকট তৈরি হয়েছে।

আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ ফেডারেল সংস্থার জন্য তহবিলের মেয়াদ নবায়ন করতে হবে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের। অন্যথায় সরকারের বড় একটি অংশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হবে এবং অপরিহার্য নয় এমন সেবাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
গত নভেম্বরে একটি সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে পূর্ববর্তী শাটডাউনের অবসান ঘটেছিল। সেই চুক্তিতে কৃষি বিভাগ, সামরিক নির্মাণ এবং ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের মতো কয়েকটি খাতে পুরো অর্থবছরের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হলেও, সরকারের অধিকাংশ কার্যক্রম সচল রাখতে কেবল স্বল্পমেয়াদী তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই সময় এখন ফুরিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের সমঝোতা আলোচনা বেশ উত্তপ্ত হবে। এর মূল কারণ হলো ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি কমানোর চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকির ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মতভেদ।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধান বিরোধ:
তহবিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়। বিশেষ করে ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর আওতায় স্বাস্থ্য বিমার খরচ কমাতে সাধারণ মার্কিনিদের যে ভর্তুকি দেওয়া হতো, তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর। এই ভর্তুকির মেয়াদ ২০২৫ সালের শেষে শেষ হয়ে গেছে। এটি নবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়ে আসন্ন সময়সীমার আগেই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই বর্ধিত সহায়তার সুবিধাভোগী, যা মার্কেটপ্লেস এনরোলিদের বা তালিকাভুক্তদের প্রায় নব্বই শতাংশ। কায়সার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভর্তুকি না থাকলে এনরোলিদের প্রিমিয়াম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাবে। এতে বার্ষিক খরচ ২০২৫ সালের গড় ৮৮৮ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ১,৯০৪ ডলারে দাঁড়াবে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস ধারণা করছে, ভর্তুকি বাড়ানো না হলে আগামী এক দশকে আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বিমার আওতার বাইরে চলে যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ওবামাকেয়ার একটি বিপর্যয়! নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রিমিয়াম আকাশচুম্বী হচ্ছে!!! ডেমোক্র্যাটরা, কিছু একটা করো!!!’
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবার সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে তারা কোনো ব্যয় সংকোচনে রাজি হবেন না। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস বলেন, ‘আমাদের অবস্থান জটিল নয়: কাটছাঁট বাতিল করুন, খরচ কমান, স্বাস্থ্যসেবা বাঁচান।’
জানুয়ারির শেষে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক, ডায়াবেটিস চিকিৎসা এবং টেলিহেলথ পরিষেবার মতো স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অন্যান্য কর্মসূচির তহবিলও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
ঘাটতির চাপে জটিল আলোচনা:
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়ন নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই এই স্বাস্থ্যসেবা বিতর্ক চলছে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশটির মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। ২০২৫ সালের ফেডারেল ঘাটতি ছিল ১.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
কট্টরপন্থী রক্ষণশীলরা ঋণের এই বিশাল বোঝাকে অস্থিতিশীল দাবি করে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও অধিকাংশ আইন পাসের জন্য তিন-পঞ্চমাংশ সুপারমেজরিটির প্রয়োজন হয়। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া বিল পাস করা কঠিন, যা তাদের আলোচনার সুযোগ করে দেয়। কিছু আইনপ্রণেতা সিনেটের নিয়ম পরিবর্তন বা ‘ফিলিবাস্টার’ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাতেই বিল পাস করা যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিলেও সিনেটের অনেক সদস্য এর বিরোধিতা করছেন।
শাটডাউনের প্রভাব ও অর্থনৈতিক ক্ষতি:
কংগ্রেস ব্যয় অনুমোদন করতে ব্যর্থ হলে সরকারি শাটডাউন বা অচলাবস্থা তৈরি হয়। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নির্ধারিত আইনি ভিত্তি অনুযায়ী, অর্থ বরাদ্দ না থাকলে সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। তবে জননিরাপত্তা বা সম্পত্তি রক্ষার মতো জরুরি কাজগুলো চালু থাকে।
শাটডাউন চলাকালীন সীমান্ত নিরাপত্তা, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক বাহিনীর মতো জরুরি সেবাগুলো চালু থাকে, তবে কর্মীরা তহবিল বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত বেতন পান না। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী কাজে বহাল থাকবেন। তবে শ্রম বিভাগ মাত্র ৩,৪০০ কর্মীকে কাজে রাখার পরিকল্পনা করেছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে হওয়া ৪৩ দিনের শাটডাউনটি ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম। ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেল গত নভেম্বরে জানিয়েছিলেন, গত বছরের শাটডাউনে মার্কিন অর্থনীতির আনুমানিক ৯ হাজার কোটি (৯০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতি হয়েছে। চলতি মাসের শেষে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সরকারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যার ফলে অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.