আপনি পড়ছেন

ইউরোপের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করা, তবে জি-৭ জোটে মস্কোকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখনো ‘পুরোপুরি অপরিপক্ব’। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার নববর্ষের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনে ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে ইতালির সেনা পাঠানোর বিষয়টিও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

জর্জিয়া মেলোনি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সম্প্রতি মস্কোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মাখোঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে মেলোনি বলেন, ‘আমি মনে করি এ বিষয়ে মাখোঁ সঠিক। আমার বিশ্বাস, ইউরোপের জন্যও রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় এসেছে।’

মেলোনি সতর্ক করে বলেন, নেগোসিয়েশন বা দর-কষাকষির ক্ষেত্রে ইউরোপ যদি শুধু কিয়েভের সঙ্গে কথা বলে, তবে তাদের প্রভাব সীমিত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যদি শুধু এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আলোচনার এই পর্বে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমার আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত তারা খুব একটা ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে না।’

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচিত একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগ করা, যাতে বিভ্রান্তি এড়ানো যায়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমরা একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেই এবং অন্যদিকে অগোছালোভাবে এগোতে থাকি, তবে আমরা পুতিনকেই সুবিধা করে দেব। শুরু থেকেই আমাদের এই সমস্যা ছিল। অনেক বেশি কণ্ঠস্বর, অনেক বেশি ফরম্যাট।’

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়াকে জি-৭ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিশ্বের শীর্ষ সাত অর্থনীতির এই জোটে রাশিয়ার ফিরে আসার বিষয়ে মেলোনি বলেন, এ নিয়ে কথা বলা ‘পুরোপুরি অপরিপক্ব’। এছাড়া ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা ইতালির নেই বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেলোনি বলেন, ‘জাতিসংঘের ছাতার নিচে আজ কোনো বিকল্প নেই। যা আলোচনা হচ্ছে, তা হলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ইচ্ছুক দেশগুলোর জোটের মধ্যে একটি বহুজাতিক বাহিনী।’

ইউক্রেনের প্রধান নিরাপত্তা গ্যারান্টি ন্যাটো হওয়া উচিত বলে মনে করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই, কারণ শান্তিরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হলো ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫, যা ইউক্রেনের জন্য প্রধান গ্যারান্টি।’ এর আগে গত মাসে ফ্রান্স ও ব্রিটেন যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ উঠে এলে মেলোনি সেখানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ শুরুর সম্ভাবনায় বিশ্বাস করি না এবং আমি একে সমর্থনও করব না।’ তিনি আরও জানান, এমন পদক্ষেপ কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শেষ নাগাদ একটি আর্কটিক কৌশল উপস্থাপন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মেলোনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক বিষয়েই আমার দ্বিমত রয়েছে।’ যখন এমন ঘটনা ঘটে, তখন তিনি তা ট্রাম্পকে জানান বলেও উল্লেখ করেন। তবে ওয়াশিংটন থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘তারা ইতালিকে কী করতে বলছে? যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে? আমাদের কি মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত?’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.