আপনি পড়ছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা ইউরোপের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিজস্ব কোনো শক্তিশালী বাহিনী বা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান না থাকায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ পর্যন্ত ন্যাটোর ওপরই নির্ভর করতে হতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড

আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং চীন নিজেকে ‘আর্কটিকের নিকটবর্তী’ শক্তি হিসেবে দাবি করার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই আগ্রহ অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্বকেই তুলে ধরে। গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য দেশ ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা পশ্চিম গোলার্ধে অবস্থিত এবং ট্রাম্প প্রশাসন একে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো জোরপূর্বক যেকোনো দখলের বিরোধিতা করেছে এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক থিংক ট্যাংক উইলফ্রেড মার্টেনস সেন্টারের গবেষক আইওনেলা সিওলান আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, সামরিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষে গ্রিনল্যান্ড দখল করা অত্যন্ত সহজ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে এটি মার্কিন নিরাপত্তা ও ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য মারাত্মক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ সম্পর্কের চূড়ান্ত ফাটল ধরাবে।’

ন্যাটোর হাতে রয়েছে একাধিক উপায়

সিওলান জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি মূলত লেনদেনভিত্তিক এবং বাস্তববাদী রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, ‘ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ফাটল এবং ন্যাটোর সম্ভাব্য বিলুপ্তির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে মস্কো ও বেইজিং। তাই ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি শেষ পর্যন্ত “আমেরিকা অ্যালোন” বা একা আমেরিকায় পরিণত হতে পারে।’

ইইউর সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে সিওলান বলেন, ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে জোটটির পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়া কঠিন। এ পরিস্থিতিতে তিনি গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষায় ন্যাটোর সম্ভাব্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর অঞ্চল, তাই জোটটি সক্রিয় করার মতো বেশ কিছু উপায় রয়েছে।’

সিওলান আরও জানান, আর্কটিক মহড়া বৃদ্ধি বা ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ অপারেশনের মতো পদক্ষেপ ইউরোপের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যেতে পারে।’

খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব

লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসভিত্তিক জিওপলিটিক্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ সেন্টারের সহযোগী বিশেষজ্ঞ ডেনিস সেনুসা সতর্ক করেছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অনির্দেশ্য পররাষ্ট্রনীতিকে অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি জানান, গত নভেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ওয়াশিংটনের মিত্রদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা ল্যাটিন আমেরিকার বাইরে গ্রিনল্যান্ডের মতো নতুন কৌশলগত এলাকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হতে পারে।

সেনুসা বলেন, ‘ইইউ যদি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি স্বীকার করে নেয়, তবে ট্রাম্প ইউরোপের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে দ্বিধা করবেন না।’

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরাসি সদস্য রাফায়েল গ্লাকসম্যান ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ়তা দেখাতে গ্রিনল্যান্ডে একটি স্থায়ী ইইউ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন। তবে সেনুসা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর বদলে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ধরনের দখল প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখতে গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব একটি উপায় হতে পারে।’

ইউরোপীয় উপস্থিতি জোরদার করা প্রয়োজন

ইইউ ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক জিউসেপ স্পাতাফোরা জানান, ট্রাম্পের এই আগ্রহ এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছে, যা প্রমাণ করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য ‘সিরিয়াস’। তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড একটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের অংশ এবং ন্যাটোর মিত্র। সেখানে ইউরোপীয় উপস্থিতি বাড়ানো উচিত।’

স্পাতাফোরা স্বীকার করেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আটলান্টিকের দুই পাড়ের ঐক্যে জটিলতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘এটি ট্রান্সআটলান্টিক ঐক্যের জন্য পরিস্থিতি সহজ করছে না, কারণ প্রতিরক্ষা বার্তা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে।’

আন্তর্জাতিক আইনে দখল নিষিদ্ধ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক আন্তোনিওস জানাকোপোলোস বলেন, বলপ্রয়োগ বা হুমকি দিয়ে কোনো ভূখণ্ড দখল করা জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারের মাধ্যমে ভূখণ্ড অর্জন বা সংযুক্তি নিষিদ্ধ করে।’

তিনি সতর্ক করেন, রাষ্ট্রগুলো যদি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চুপ থাকে, তবে তা বিপজ্জনক হতে পারে। ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিষয়ে ইউরোপের ‘দুর্বল’ প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। জানাকোপোলোস বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এর ফলে ভেনিজুয়েলার মতো হস্তক্ষেপগুলো একসময় বৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করতে পারে।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.