আপনি পড়ছেন

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দেশটির সরকারের ভিন্নমত দমনের সক্ষমতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে ইসরায়েল। তবে দেশটি এখনো প্রকাশ্যে কোনো হস্তক্ষেপে যাচ্ছে না। বরং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়, তখনও ইসরায়েল অপেক্ষমাণ অবস্থানেই রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি- এএফপি

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসের পর মাস ইরানকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পর হঠাৎ করেই নীরব হয়ে গেছে ইসরায়েল। বিক্ষোভ কোন দিকে গড়ায়, তা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিচ্ছে তেল আবিব। একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক দিনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে গত গ্রীষ্মে ইরানে আকস্মিক হামলার নির্দেশ দেওয়া নেতানিয়াহু তার মন্ত্রীদের ইরান নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গেল ডিসেম্বরে বিক্ষোভ শুরুর প্রথম দিকে ইসরায়েলের বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা একটি ক্যাপ পরে সেলফি পোস্ট করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভিকে ট্যাগ করেন এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে একটি ভিডিও বার্তা দেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর অন্তত দুইবার মন্ত্রীদের নীরব থাকার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

গত রোববার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু শুধু এটুকুই বলেন, ইসরায়েল ইরানের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিক্ষোভকারীদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে সমর্থন করে। তেহরান বা দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, সামগ্রিক নির্দেশনা হলো— নীরব থাকা। আমরা যদি হস্তক্ষেপ করি, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

দুই সপ্তাহ আগে লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ দেশের ১৮০টিরও বেশি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে মূল সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ তেহরানের জন্য উল্টো সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ এতে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দায় বিদেশি শত্রুর ঘাড়ে চাপানোর সুযোগ পাবে।

একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে এখন হস্তক্ষেপ করার সময় নয়। এতে সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং জনগণকে একত্রিত করার অজুহাত পেয়ে যাবে শাসকগোষ্ঠী।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব নীরব থাকলেও গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের পরিস্থিতি ইসরায়েলি গণমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্মৃতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন পৌর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আসন্ন হামলার আশঙ্কা কমিয়ে দেখাতে চেয়েছে।

সোমবার এক্সে আইডিএফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন লেখেন, ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে অনেক গুজব ছড়িয়েছে। ইরানের বিক্ষোভ একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। কোনো পরিবর্তন হলে জানানো হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.