মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মিসর, লেবানন ও জর্ডানে মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিকভাবে চাপ জোরদারের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশে মুসলিম ব্রাদারহুডকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি বিভাগ) জর্ডান ও মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে ‘বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের সংগঠনটিকে আরও কঠোর শ্রেণি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানায়, মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখা নিজেদের বৈধ নাগরিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরলেও আড়ালে তারা হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকে প্রকাশ্য ও উৎসাহের সঙ্গে সমর্থন করে।
মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের ভারপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ নেতা সালাহ আবদেল হক এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলমানের ক্ষতি করবে এবং তা চ্যালেঞ্জ জানাতে সংগঠনটি সব আইনি পথ অবলম্বন করবে।
মঙ্গলবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আবদেল দাবি করেন, ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাপেই ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা, অর্থায়ন বা সহায়তা করেছে— এমন সব অভিযোগ আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বাস্তব পরিস্থিতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নয়, বরং ইউএই ও ইসরায়েলের বিদেশি চাপের প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া অবৈধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি এসব সংগঠনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এফটিও তালিকাভুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশও নিষিদ্ধ হবে।
১৯২৮ সালে মিসরের ইসলামি চিন্তাবিদ হাসান আল-বান্নার হাতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এর শাখা ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনটি ও এর সহযোগীরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বিশ্বাসী বলে দাবি করে আসছে।
লেবাননে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা আল-জামা’আ আল-ইসলামিয়া দেশটির পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে। জর্ডানে সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখা ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৩১টি আসনে জয় লাভ করে। তবে গত বছর জর্ডান সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে, যাকে তারা একটি নাশকতা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করে।
মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড ২০১২ সালে দেশটির একমাত্র গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়। কিন্তু এক বছর পর সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ২০১৯ সালে কারাগারে তিনি মারা যান। ২০১৩ সাল থেকে মিসর সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করে এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান চালিয়ে আসছে।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুসলিম ব্রাদারহুডের মিসর শাখাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করায় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানায় এবং একে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আখ্যা দেয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.