ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী জোটে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের কারণে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শেষ পর্যন্ত জোটে থাকবে কি না সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লোগো

যদিও জামায়াত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে স্থগিত করা হয়েছে। এর আগেই দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের ভেতরে অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শুরা কাউন্সিলের দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে চলমান সমঝোতা নিয়ে খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আসন বণ্টনের পাশাপাশি রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্নও উঠে আসে। ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, সমঝোতার শুরুতে ‘ওয়ান বক্স’ নীতির কথা বলা হলেও পরে জামায়াত এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং অন্য শরিকদের না জানিয়ে আলাদা রাজনৈতিক যোগাযোগ করেছে।

বিশেষ করে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে জামায়াতের পৃথক বৈঠক ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে সন্দেহ তৈরি করেছে বলে জানান একাধিক নেতা।

ইসলামী আন্দোলন শুরুতে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিল। আলোচনার ধারাবাহিকতায় তারা দাবি কমিয়ে আনলেও সর্বশেষ ৫০টির বেশি আসনে ছাড় চেয়েছে। কিন্তু জামায়াতের প্রস্তাব ছিল প্রায় ৪০টি আসন। এই ব্যবধানই বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলটির অনেক নেতা মনে করছেন, জামায়াতের প্রস্তাব তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জোট রাজনীতিতে আস্থার সংকট বাড়িয়েছে আরেকটি বিষয়। ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের একাংশ মনে করছেন, একদিকে ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার কথা বলা, অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে ‘জাতীয় সরকার’ এর আলোচনা করা এই অবস্থান দ্বিচারিতার শামিল।

শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও বিষয়টি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত জোটে থাকা বা না থাকার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীরের ওপর। তিনি সমঝোতায় থাকতে চাইলে দলীয় সুপারিশ গৌণ হয়ে যাবে, আর তিনি না চাইলে জোট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। দলটি ২৫-৩০টি আসনে ছাড় চাইলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে রাজি বলে দলীয় সূত্র জানায়।

খেলাফত মজলিস চায় যেসব আসনে সমঝোতা হবে না, সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হোক। তবে দলটির নেতারা বলছেন, সমঝোতা না হলে জোট টিকে থাকাও কঠিন হতে পারে।

সব অনিশ্চয়তার মধ্যেই জামায়াত আজ বিকেলে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দলের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে সব শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষণার আগেই যদি ইসলামী আন্দোলন বা খেলাফত মজলিস ভিন্ন অবস্থান নেয়, তাহলে ইসলামপন্থী বৃহত্তর জোটের ঐক্য বড় ধাক্কা খেতে পারে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.