আপনি পড়ছেন

বেইজিংয়ের সঙ্গে গত কয়েক মাসে সম্পর্কের যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন অনেক ‘বেশি অনুমানযোগ্য’। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার এ কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন।

গত কয়েক মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রিমিয়ার লি ছিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে কার্নি বলেন, ‘আমরা সব বৈঠকেই সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করেছি—কোথায় আমরা সহযোগিতা করতে পারি, কোথায় আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে এবং কোথায় রাষ্ট্রীয় পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একে অপরের পদ্ধতিগত ভিন্নতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং এ ধরনের স্পষ্ট ও ধারাবাহিক আলোচনা সম্পর্ককে আরও অনুমানযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।’

অবশ্য কার্নি স্বীকার করেছেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ‘অনেক বেশি বহুমুখী, অনেক গভীর এবং বিস্তৃত’। তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, গত কয়েক মাসে চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তা অনেক বেশি অনুমানযোগ্য এবং এর ফলাফলও এখন দৃশ্যমান।’

গত আট বছরের মধ্যে কোনো কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম চীন সফর। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে অটোয়া যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, এই সফর তারই ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার হুমকিও দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে এলো।

কার্নি জানিয়েছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য দেশগুলোতে রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ

বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ভূমিকা এবং নতুন বিশ্বব্যবস্থা কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্ব এখনো নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেন কার্নি। এর আগে চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য আসলে কিসের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে?’

২০১৭ সালে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কার্নি বৃহস্পতিবার লি ছিয়াংকে বলেন, ‘শেষ সফরের পর পৃথিবী অনেক বদলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, তা নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্য আমাদের প্রস্তুত করবে।’

শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্নি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভদ্রভাবে বলতে গেলে, যে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ক্ষয়ে গেছে বা দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এর জায়গায় এখন কী গড়ে উঠবে?’

কার্নি আরও বলেন, ‘প্রত্যাশা হলো, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উন্নয়নের পরিবর্তে এখন বিভিন্ন জোটের মাধ্যমে উন্নয়ন হবে। এটি পুরো বিশ্বের জন্য নয়, বরং বিশ্বের উপ-সেক্টরগুলোর জন্য হবে।’

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কার্নি বলেন, চীন ও কানাডা অতীতের সম্পর্কের সেরা দিকগুলোর ওপর ভিত্তি করে নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের দুই পাড়ের মানুষের জন্য স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

বেইজিংয়ে তিনি ঘোষণা করেন, কানাডা ৪৯,০০০ পর্যন্ত চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেবে এবং এগুলোর ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। বুধবার তার চার দিনের সফর শুরুর আগে পর্যন্ত এই শুল্কের পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, চীনও কানাডার ক্যানোলা বীজ আমদানির ওপর শুল্ক প্রায় ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করবে।

১৯৭০ সালে সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে কানাডা ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে এবং ২০২৪ সাল শেষে তাদের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এক চীন নীতি

কার্নি জানান, ১৯৭০ সালে নির্ধারিত কানাডার ‘এক চীন’ নীতি রাজনৈতিক বিভাজন নির্বিশেষে অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে (বেইজিংয়ে) গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে রয়েছে আমাদের জনগণের সম্পর্ক।’

দুইজন কানাডিয়ান আইনপ্রণেতা তাদের তাইওয়ান সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কার্নি স্পষ্ট করেন, ওই দুই আইনপ্রণেতা সফরের ‘জনগণের অংশে’ অংশ নিয়েছিলেন, ‘সরকারি অংশে’ নয়। কানাডিয়ান লিবারেল পার্টির আইনপ্রণেতা হেলেনা জ্যাকজেক এবং মেরি-ফ্রান্স লালন্ড, কার্নি বেইজিংয়ে পৌঁছানোর এক দিন আগে মঙ্গলবার তাইওয়ান ত্যাগ করেন। কার্নি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি সোজাসাপ্টা বিষয়: গত ৫৫ বছর ধরে সরকারের নীতি কী ছিল, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করা।’

উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দাবি করে, অন্যদিকে তাইপে ১৯৪৯ সাল থেকে নিজেদের স্বাধীনতা দাবি করে আসছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কার্নি বলেন, ‘বিশ্ব প্রতিনিয়ত আরও বৈচিত্র্যময় ও বিভক্ত হয়ে উঠছে এবং নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটও পাল্টাচ্ছে। আমরা অনেক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি, এটাই বাস্তবতা। আমার দায়িত্ব হলো জোট ও সম্পর্কের মাধ্যমে স্থিতিস্থাপকতা ও নিরাপত্তা গড়ে তুলে সেই হুমকিগুলো মোকাবিলা করা।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.