বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। অন্তর্বর্তী সরকার এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সংসদ নির্বাচনে তারা নিরপেক্ষ থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কারের স্বার্থে গণভোটে তাদের অবস্থান ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। তবে সরকারের এই একপাক্ষিক প্রচারণা নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তুলেছে।

ছবি - সংগৃহীত

সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিভিন্ন জেলায় সফর করে এই প্রচারণাকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) খুলনায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু জনকল্যাণমূলক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে গণভোটে তারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রেস সচিব শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, বিগত সরকারের মতো অপশাসন ও চুরি-চামারি বন্ধ করতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষ নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়েই সরকারগুলো গণভোটে নির্দিষ্ট পক্ষ অবলম্বন করে থাকে। অন্যদিকে, সিলেটে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালানো রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে কেফায়া’ বলে মন্তব্য করেন। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনবিরোধী অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সরকারি প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ‘ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান’ ১০টি সুসজ্জিত ট্রাক ও ডিজিটাল স্ক্রিন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লিফলেট ও প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, উচ্চকক্ষ গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা বা কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই একপাক্ষিক সুবিধাসমূহ প্রচার করা হচ্ছে, যা ‘ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট’ বা জোরপূর্বক সম্মতি উৎপাদনের শামিল। জনগণের করের টাকায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানো হলেও ‘না’ ভোটের বা দ্বিমত পোষণের কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না।

সরকারের এই তৎপরতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলো। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা নির্বাচনের সমতল ক্ষেত্র (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নষ্ট করছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে এবং একপাক্ষিক প্রচারণা চলতে থাকলে ভোটাররা প্রভাবিত ও প্রতারিত হবে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ব্যাহত করবে।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে প্রচারণায় কোনো আইনি বাধা নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আইনি বাধা না থাকলেই তা নৈতিকভাবে সিদ্ধ হয় না। একটি অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। সেখানে সরকার নিজেই যখন একটি পক্ষ হয়ে প্রচারণা চালায়, তখন তা খেলার মাঠে রেফারিকে এক পক্ষের হয়ে খেলতে দেখার মতো মনে হতে পারে। এতে ভিন্নমতের স্থান সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.