বিএনপি বনাম জামায়াত: ভোটের লড়াইয়ে জরিপে এগিয়ে কারা?
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটে আওয়ামী লীগের নাম নেই, তবুও ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের চাবিকাঠি কার্যত দলটির সমর্থকদের হাতেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দেশের ১৩তম সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সাময়িকীটির দক্ষিণ এশিয়া সম্পাদক সুধা রামচন্দ্রন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—আগামী দিনে কে ধরবে বাংলাদেশের হাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জনমত জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কোনো কোনো জরিপে বিএনপির জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৯ শতাংশ দেখানো হলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে। ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লড়াইটি একপেশে না হয়ে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে জয়ের ব্যবধান হতে পারে সামান্য। মূলত লড়াইটি সীমাবদ্ধ থাকবে মধ্য-ডানপন্থী বিএনপির জোট এবং ডানপন্থী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে।
সুধা রামচন্দ্রন তার নিবন্ধে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। তার নেতৃত্বে দলে কোনো বিভক্তি দেখা না যাওয়ায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিয়োগান্তক অধ্যায় এবং তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রতি সহানুভূতির ঢেউ তুলতে পারে। বিগত সরকারের দমনপীড়নে দলটি কিছুটা অগোছালো থাকলেও, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ বিএনপির অনুকূলে আসতে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের একাত্তরের ভূমিকার কারণে সৃষ্ট নেতিবাচক ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলতে নতুন কৌশল নিয়েছে। ভাবমূর্তি পরিবর্তনে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জোটে ভিড়িয়েছে। শহুরে তরুণ সমাজ ও ছাত্র রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সাফল্য এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে দুই দলের বর্তমান সম্পর্কের রসায়নও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একসময় আওয়ামী লীগ-বিরোধী অবস্থানে বিএনপি ও জামায়াত মিত্র থাকলেও, অভিন্ন শত্রু দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়ায় তাদের পথ এখন ভিন্ন। সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন ইস্যুতে গত এক বছরে তাদের দূরত্ব বেড়েছে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে এক সরকারে থাকলেও বর্তমানে ৩০০টি আসনেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি চলছে।
নির্বাচনে ৮-১০ শতাংশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সুধা রামচন্দ্রন। ঐতিহাসিকভাবে এই ভোটব্যাংক আওয়ামী লীগের হলেও, বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই এখন তা নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। তারেক রহমান তার প্রথম ভাষণে সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলে জামায়াতের অতীত সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বিপরীতে, জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় নারীর অনুপস্থিতি এবং মাত্র একজন হিন্দু প্রার্থীর উপস্থিতি তাদের ‘পরিবর্তিত’ দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থকরা পুরোনো বৈরিতা ভুলে বিএনপির ‘নতুন দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করবেন, নাকি অন্য কোনো সমীকরণের জন্ম দেবেন—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.