ভোটের প্রচারে নামছেন দেড় হাজার প্রার্থী, সংখ্যায় এগিয়ে বিএনপি
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই আগামীকাল থেকে পুরোদমে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত দেড় হাজারের বেশি প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রার্থীর সঠিক সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মাঠের চিত্র ও বিভিন্ন জরিপ বলছে, এবারের ভোটে মূল লড়াইটি হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ২৮৩টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ধানের শীষের সঙ্গে পাল্লা দিতে ২১৫টি আসনে দলীয় প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। যে আসনগুলোতে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী নেই, সেখানে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে। অনেক স্থানে দলটির নেতারা মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবেও লড়ছেন।
জামায়াতে ইসলামী এবার ১০টি দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তুলেছে। যেসব আসনে তাদের নিজস্ব প্রার্থী নেই, সেখানে শরিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৯টি এবং খেলাফত মজলিস ১৯টি আসনে লড়বে। এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টি ৫টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে গণভোট আয়োজনের কথা রয়েছে। তবে পাবনা ১ ও ২ আসনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করায় সেখানে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকছে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে ২ হাজার ৫৬৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৪৭৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র। যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জন বাদ পড়লেও আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪১৭ জন। স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, ২৭৩টি আসনে ১ হাজার ৬৬৭ জন প্রার্থী টিকে আছেন।
বিগত কয়েকটি নির্বাচনের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীর সংখ্যা ও অংশগ্রহণের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ১ হাজার ৯৬৯ জন প্রার্থী ছিলেন, যা ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এর আগে ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটে’ ১ হাজার ৮৬১ জন এবং ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে মাত্র ৩৯০ জন প্রার্থী ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালে ১ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯১ সালে ২ হাজার ৭৮৭ জন, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং ২০০১ সালে ১ হাজার ৯৩৯ জন প্রার্থী ভোটে অংশ নিয়েছিলেন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের দেড় বছরের মাথায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
আওয়ামী লীগ ছাড়াও নিবন্ধিত আরও আটটি দল এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। বিএনপি তাদের শরিকদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদকে দুটি, জমিয়তে ওলামা ইসলামের দুই অংশকে ৫টি এবং বাকি আটটি দলকে একটি করে আসন ছেড়ে দিয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.