আপনি পড়ছেন

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় এখন আর রূপান্তর নয়, বরং ফাটল ধরেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরাশক্তিগুলো এখন শুল্ক, আর্থিক চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংহতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

মার্ক কার্নি

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। কার্নি বলেন, বৈশ্বিক সংহতির মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধার দীর্ঘদিনের ধারণাটি ভেঙে পড়েছে। এখন বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধি ভাগ করে নেওয়ার পরিবর্তে অধীনস্থ করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার গল্পটি আংশিক মিথ্যা ছিল।’ তিনি আরও বলেন, একসময় মার্কিন আধিপত্য উন্মুক্ত সমুদ্রপথ ও যৌথ নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক সুবিধা দিলেও, সেই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার সমীকরণটি এখন আর কাজ করছে না।

কার্নি উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে অর্থ, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলো চরম বৈশ্বিক সংহতির দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, ‘পরাশক্তিগুলো অর্থনৈতিক সংহতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। শুল্ককে চাপ প্রয়োগের মাধ্যম, আর্থিক অবকাঠামোকে জোরজবরদস্তি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে দুর্বলতা হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন সংহতি আপনার অধীনস্থ হওয়ার উৎসে পরিণত হয়, তখন পারস্পরিক সুবিধার মিথ্যার মধ্যে আপনি বসবাস করতে পারেন না।’

বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে অটোয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন কার্নি। তিনি বলেন, ‘আর্কটিক বা উত্তর মেরুর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা দৃঢ়ভাবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে আছি। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অনন্য অধিকার তাদেরই।’

তিনি ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রতি কানাডার অঙ্গীকারের কথাও জোর দিয়ে বলেন। অটোয়া ন্যাটোর উত্তর ও পশ্চিম প্রান্ত শক্তিশালী করতে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে রাডার, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান এবং স্থলবাহিনীতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘কানাডা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্কের কঠোর বিরোধিতা করে এবং আর্কটিকে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি অর্জনে আলোচনার আহ্বান জানায়।’

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য ডেনমার্ক ও অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প গত শনিবার ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স এবং ফিনল্যান্ডের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে। গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বলবৎ থাকবে এবং জুনের ১ তারিখ থেকে তা বেড়ে ২৫ শতাংশ হতে পারে।

কার্নি জানান, কানাডা ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে, যা ১৫০ কোটি মানুষের একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য ব্লক তৈরি করবে।

ডাভোস সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন কার্নি। মাক্রোঁ ও কার্নি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, দুই নেতা আর্কটিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ন্যাটোর অধীনে কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাতে কার্নি আবারও বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের। কানাডা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্কটিকের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.