আপনি পড়ছেন

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ‘কাঠামোগত চুক্তি’ হওয়ার দাবি করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। উভয় দেশের নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের সার্বভৌমত্ব বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার কোনো এখতিয়ার ন্যাটোর নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ক্রমাগত হুমকি ও চাপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন

গ্রিনল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া: অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন জানান, ট্রাম্প ও ন্যাটো প্রধানের মধ্যে আসলে কী সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অন্ধকারে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটিতে সুনির্দিষ্টভাবে কী আছে, তা আমি জানি না। তবে আমি জানি যে, একটি সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বর্তমানে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে।’

নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাবের সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, তবে ক্রমাগত হুমকির মুখে তা কঠিন হয়ে পড়ছে। তার ভাষায়, ‘প্রতি সন্ধ্যায় হুমকি শুনতে থাকলে সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন। শান্তিকামী গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য প্রতিদিন তাদের স্বাধীনতা হরণের হুমকি শোনাটা কেমন হতে পারে, তা একবার ভেবে দেখুন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিরা কিছুদিন আগে মার্ক রুটের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এগুলো হলো—জাতীয় অখণ্ডতা, সীমানা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়া অন্য কেউ তাদের হয়ে চুক্তি করতে পারে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

ডেনমার্কের অবস্থান: ন্যাটোর এখতিয়ার ও সহযোগিতা

অন্যদিকে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্ট্যামারের সঙ্গে বৈঠকের পর এবং ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের হয়ে আলোচনার কোনো এখতিয়ার ন্যাটোর নেই।’

তবে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমার জানামতে, ন্যাটো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলেছেন। আমরা এটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। ডেনমার্কের পক্ষ থেকে আমরা এটিই চেয়েছিলাম।’

ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব কোনো আলোচনার বিষয় নয় এবং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ। তিনি বলেন, ‘এটি সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত যে আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এ নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করতে পারি না।’ তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক সমর্থন ও প্রেক্ষাপট

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর এই চাপের মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মেট ফ্রেডেরিকসেন। ব্রাসেলসে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যখন বিভক্ত হয় না, যখন আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই, তখন ফলাফল পাওয়া যায়।’ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্ট্যামারকেও তার জোরালো সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আর্কটিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, বিপুল খনিজ সম্পদ এবং ওই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নজর রয়েছে দ্বীপটির ওপর। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড বরাবরই দ্বীপটি বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড ও বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে এবং এর বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও তিনি সরে এসেছেন। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের দৃঢ় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংকট সহসাই কাটছে না।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.