আপনি পড়ছেন

গৃহযুদ্ধপীড়িত মিয়ানমারে বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। চলমান সহিংসতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সামরিক বাহিনী-সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ছবি- রয়টার্স

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ ৬০টি টাউনশিপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নয়। এটি মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারপ্রধান অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অং সান সু চি এখনও বন্দি। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) একাধিক বিরোধী দল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কার্যত সামরিক-সমর্থিত ইউএসডিপির পক্ষে ঝুঁকে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইউএসডিপি নিম্নকক্ষে ২০৯টির মধ্যে ১৯৩টি আসন এবং উচ্চকক্ষে ৭৮টির মধ্যে ৫২টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত ১৬৬টি আসন যোগ হলে, তারা মোটামুটি ৪০০ আসনের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯৪ আসনের অনেক বেশি। আরও ১৭টি ছোট দল সংসদে ১ থেকে ১০টি করে আসন পেয়েছে।

বর্তমান সামরিক সরকারের প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইং নতুন সংসদ বসার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন বলে সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষই মনে করছে। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আগামী মার্চে সংসদের অধিবেশন শুরু হবে এবং এপ্রিলে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে।

যদিও সেনা নেতৃত্ব দাবি করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ভোটের আগে ব্যাপক ভীতি প্রদর্শন, দমন-পীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচন সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরও দৃঢ় করবে।

সম্প্রতি প্রণীত নির্বাচন সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের সমালোচনার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। লিফলেট বিতরণ বা অনলাইনে মত প্রকাশের অভিযোগে চার শতাধিক মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ভোটের আগেই জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক মানবাধিকার বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে অ্যান্ড্রুজ লেখেন, ‘একটি অবৈধ নির্বাচন থেকে কেবল অবৈধ সরকারই জন্ম নিতে পারে। বিশ্বকে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং এর পরবর্তী ঘটনাকেও বেসামরিক পোশাকে সামরিক শাসন হিসেবে দেখতে হবে।’

এর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ, যা ২০২০ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনের ৭০ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। চূড়ান্ত ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও, ইউএসডিপি সোমবারই বিজয় ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির এনএলডি ইউএসডিপিকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছিল। এর পরই ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স-এর তথ্যমতে, গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭ হাজার ৭০৫ জন নিহত এবং ২২ হাজার ৭৪৫ জন আটক হয়েছেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.