আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেয়াপোলিস শহরের প্রাণকেন্দ্রে শুক্রবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশে টুইন সিটিতে মোতায়েন করা হাজার হাজার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ছবি - সংগৃহীত

বিক্ষোভকারীদের অনেকের মধ্যেই বিশ্বাসঘাতকতার তীব্র অনুভূতি কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এই বাহিনী মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য অভিবাসন আইন প্রয়োগ নয়, বরং যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা প্রদর্শন করা। সেন্ট পলের বাসিন্দা ব্রেন্ডান আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘আমার প্রতিবেশীদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে। মানুষদের তাদের ঘর থেকে অপহরণ করা হচ্ছে, অন্তর্বাস পরা অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে বের করা হচ্ছে। এই পুলিশি রাষ্ট্র মনে করে তারা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে যা খুশি তাই করতে পারে এবং কেউ তাদের এখানে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেবল আমাদের নির্যাতন ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। এটি একটি সন্ত্রাসী কৌশল। তারা তাদের কাজেও দক্ষ নয়। তারা নিয়মিত ভুল মানুষদের গ্রেপ্তার করে এবং ছয় ব্লক দূরে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। এটি কেবল আমাদের সম্প্রদায় ও এলাকাকে ভয় দেখানোর জন্য করা হচ্ছে।’

ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর অভিযানকে জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে গত ডিসেম্বরে টুইন সিটিতে আইসিই মোতায়েনের পর থেকে উত্তেজনা বাড়ছিল। সম্প্রতি ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী রেনি গুড এবং ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের নার্স অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুতে সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

সাউথ মিনেয়াপোলিসের বাসিন্দা জোডি আরউইন বলেন, ‘তারা মানুষ, শিশু এবং আমার প্রতিবেশীদের অপহরণ করছে, রাস্তায় হত্যা করছে। আমি কী বলব বুঝতে পারছি না, মনে হচ্ছে আমরা আক্রমণের শিকার, যেন আমরা নিজ দেশের সরকারের সঙ্গেই যুদ্ধে লিপ্ত।’

রাজ্যজুড়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আইসিই-এর অভিযান এবং ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। তবে শুক্রবারের বিক্ষোভটি ছিল এ পর্যন্ত হওয়া অন্যতম বড় জনসমাগম।

চলতি মাসে মিনেয়াপোলিসে পৃথক ঘটনায় রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেত্তি নিহত হন। গত ৭ জানুয়ারি একটি বিক্ষোভস্থলের কাছে রেনি গুড নিহত হন। এর তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অন্য একটি বিক্ষোভে অ্যালেক্স প্রেত্তিকে গুলি করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ফেডারেল এজেন্টরা তাকে ১০ বার গুলি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দ্রুত দাবি করেন, প্রেত্তি একজন সশস্ত্র ও সহিংস হামলাকারী ছিলেন এবং তার মৃত্যু একটি যৌক্তিক পদক্ষেপের ফল। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও, শপথ করা জবানবন্দি এবং চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। এসব তথ্য অনুযায়ী, প্রেত্তিকে নিরস্ত্র ও আটক করার পর মাটিতে চেপে ধরে গুলি করা হয়েছিল।

মিনেয়াপোলিসের বাসিন্দা ক্রিস্টাল হেগেন বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কারণ আমি চাই না আর কেউ নিহত হোক। আমি এখানে এসেছি কারণ মিনেসোটা আর এখানে আইসিই-কে চায় না।’

হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসবই মিথ্যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মিথ্যা শোনার যোগ্য নই। আমাদের এমন কাউকে দরকার যিনি মিনেসোটার পাশে দাঁড়াবেন এবং সত্য কথা বলবেন।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.