মাহফুজ আলম: জুলাই অভ্যুত্থানের এখন কোথাও দেখা যাচ্ছে না
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখন আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, গত দেড় বছরে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে যুক্ত বেসামরিক ও সামরিক আমলা, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমের একাংশ সংঘবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

সম্প্রতি দ্য উইকে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফুজ আলম উল্লেখ করেন, ৮ আগস্টের পর মানুষ আশা করেছিল দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের ভেতরে থেকে আমি দেখেছি, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো অর্থবহ পরিবর্তন চায়নি। প্রশাসন ও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, তারা গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন, এখন সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী সরকারের।’
ক্ষমতার বলয় বলতে তিনি কাদের বোঝাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জামায়াত—সবার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। এদের মধ্যে কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা, যাদের অনেকেরই জামায়াত-বিএনপির পটভূমি রয়েছে, তারাও এই পুরোনো বন্দোবস্তের অংশ।’
জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বড় ব্যবসা বা গণমাধ্যমের ওপর তরুণদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক কমিটির মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তিনি একমত হতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এনসিপি জামায়াতকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে। রাজনীতিকে আবারও ধর্মনিরপেক্ষ বনাম ইসলামপন্থী—এই দ্বিমুখী দ্বন্দ্বে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা থেকে আমরা বেরিয়ে এসে জাতিগঠনে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলাম।’
শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড এবং এর প্রভাব সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, এটি একটি আবেগঘন স্মৃতি হয়ে থাকবে, কিন্তু এর ফলে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে না। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু সমাজকে কাঠামোগতভাবে পরিবর্তন করতে পারেনি। শুধু আবেগ দিয়ে পরিবর্তন আসে না, পরিবর্তন আনে ক্ষমতার কাঠামো।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা ও হামলার বিষয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম অলিগার্ক শ্রেণির মালিকানাধীন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কারণ বেসামরিক ও সামরিক স্বার্থ তাদের রক্ষা করে।’ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি বাকস্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল উগ্রবাদী হামলা ছিল না, বরং বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী এবং সরকারের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন পক্ষ এতে ভূমিকা রেখেছিল।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সাল আমাদের প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ পর্যন্ত জাতীয় বীর। কিন্তু আমরা যার বিরোধিতা করি, তা হলো ১৯৭১-কে কেবল একটি দলের বা পরিবারের আখ্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, পাঠ্যপুস্তক থেকে শেখ মুজিবকে মুছে ফেলা হয়নি, বরং দলীয় বয়ানকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপির সঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন, কিন্তু দলটির সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলে যোগ দেই বা না দেই, রাজনীতি, প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য আমাদের লড়াই আজীবন অব্যাহত থাকবে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃনির্ধারণ প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম পরামর্শ দেন যে, ভারতকে জুলাই অভ্যুত্থানকে একটি জেনুইন গণ-আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় গণমাধ্যমকে বাংলাদেশকে প্রপাগান্ডার বিষয়বস্তু বানানো বন্ধ করতে হবে। তাদের উচিত এখানে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বাস্তবতা তুলে ধরা। স্বীকৃতি, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম—এই তিনটি বিষয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.