আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বৃহস্পতিবার একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এর ফলে প্রায় ৫০ হাজার জ্যেষ্ঠ কর্মীকে নতুন একটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা তাদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া সহজ করে তুলবে। নতুন এই নিয়মের আওতায় নীতি নির্ধারণী কাজে জড়িত সরকারি কর্মীদের ‘অ্যাট-উইল’ বা ‘ইচ্ছাধীন’ পদে স্থানান্তর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

এই পরিবর্তনের ফলে ওই কর্মীদের অন্য সাধারণ পেশাজীবী পদের মতো চাকরির সুরক্ষা থাকবে না। অর্থাৎ, কোনো বেআইনি কারণ ছাড়া যেকোনো সময় যেকোনো কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা যাবে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ফেডারেল কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ শতাংশ এই নীতিমালার প্রভাবে পড়বেন।

এই পদক্ষেপের ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেখানে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে চাইছে। যারা নিয়ম, যৌক্তিকতা বা সম্ভাব্য বেআইনি বিষয় উপেক্ষা করে প্রশাসনের নির্দেশ পালন করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচকরা বলছেন, তার এই নিয়োগগুলো যোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সমুন্নত রাখার আইনি কর্তব্যের চেয়ে ব্যক্তিগত অন্ধ আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

ফেডারেল কর্মী ইউনিয়ন এবং আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বরখাস্তের বিরুদ্ধে কোনো স্বাধীন সংস্থার কাছে আপিল করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।

প্রশাসন এই নতুন শ্রেণিবিভাগের নাম দিয়েছে ‘শিডিউল পলিসি/ক্যারিয়ার’। এই শ্রেণিবিভাগ তৈরির লক্ষ্য সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘খারাপ পারফরম্যান্স বা অসদাচরণের জন্য কর্মীদের অপসারণ করতে সংস্থার সুপারভাইজাররা চরম অসুবিধার কথা জানান।’

নতুন এই বিভাগটি সংস্থাগুলোকে দ্রুত এমন কর্মীদের অপসারণের সুযোগ দেবে, যারা অসদাচরণে লিপ্ত, যাদের কাজের মান খারাপ, অথবা যারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অমান্য করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই নিয়মটি তৈরি করা হয়েছে। এটি ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে নেওয়া একটি নীতির পুনরাবৃত্তি, যেখানে নীতি নির্ধারণে জড়িত সরকারি কর্মীদের জন্য ‘শিডিউল এফ’ নামে একটি বিভাগ তৈরি করা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই আদেশটি দ্রুত বাতিল করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে পেশাজীবী সরকারি কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করতে নতুন নিয়ম চালু করেছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মটি ২০২৪ সালের সেই সুরক্ষাকে বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে ৩০টিরও বেশি ইউনিয়ন ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপের একটি জোট তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ধনকুবের ইলন মাস্ককে লাখ লাখ সরকারি কর্মীকে ছাঁটাই করার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক সরকারি কর্মীবাহিনীর প্রায় ১২ শতাংশ ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের অনির্দিষ্ট কারণে বা তথাকথিত পারফরম্যান্সজনিত সমস্যার কথা বলে বরখাস্ত করা হয়েছে, যদিও তাদের পারফরম্যান্স রিভিউ ইতিবাচক ছিল। আদালতের মাধ্যমে কেউ কেউ তাদের পদ ফিরে পেলেও সামগ্রিকভাবে বড় একটি অংশ ছাঁটাইয়ের শিকার হয়।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.