ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি, ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরেশিয়ার নিরাপত্তায় ন্যাটোর সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে সংস্থাটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ বা ওএসসিই নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর শুক্রবার তিনি এই মন্তব্য করেন।

রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো ইউরেশিয়া মহাদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ন্যাটো ঘোষণা করেছে, তা সমর্থন করে না মস্কো। লাভরভের অভিযোগ, সংস্থাটি আসিয়ানের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে কিছু সদস্যকে ‘কোয়ার্টেট’ ও ‘ট্রিও’-এর মতো গোপন জোটে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং ওই অঞ্চলে সামরিক মহড়ায় পারমাণবিক উপাদান যুক্ত করা হচ্ছে।
ওএসসিই চেয়ারম্যান ও সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস এবং ওএসসিই মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগ্লুর সঙ্গে বৈঠকের পর লাভরভ বলেন, ‘আমরা চাই না ন্যাটো পুরো ইউরেশিয়া মহাদেশের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হোক। অথচ ন্যাটো ঠিক সেই লক্ষ্যই ঘোষণা করেছে।’ তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান।
কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার পক্ষে রাশিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন লাভরভ। তিনি জানান, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন কতটা প্রস্তুত, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে মস্কো। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আলোচনার পক্ষপাতি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত তা দেখার অপেক্ষায় থাকব।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, চীন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ও ব্রিকসের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে রাশিয়া অবিচ্ছেদ্য নিরাপত্তার নীতি সমর্থন করে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘গ্রেটার ইউরেশিয়ান পার্টনারশিপ’ উদ্যোগ সম্পর্কে ওএসসিই-কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। মস্কো এটিকে ভবিষ্যতের ইউরেশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর বস্তুগত ভিত্তি হিসেবে মনে করে। তিনি বলেন, মহাদেশজুড়ে লজিস্টিকস, পরিবহন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির মতো বাস্তব বিষয়গুলো এই উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে সামরিক-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু এখন ইউরেশিয়ার দিকে সরে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যের সূত্র ধরে লাভরভ ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের প্রস্তুতির অভিযোগ তোলেন। তিনি রুটের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ‘ইচ্ছুক দেশগুলোর জোট’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনে প্রস্তুত।
লাভরভের ভাষ্যমতে, রুট বলেছেন যে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তির পরপরই স্থল, নৌ ও আকাশপথে এ ধরনের বাহিনী উপস্থিত হতে পারে। তবে ইউক্রেনে ন্যাটো সেনাদের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে মস্কো। তারা যেকোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে যাওয়ায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একটি ‘শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন লাভরভ। তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য রাশিয়া প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বিবৃতিতে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তবে মস্কো আলোচনার পথকেই অগ্রাধিকার দেয় এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তুতির বিষয়টি মূল্যায়ন করবে।
পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন সীমিত করার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এটি নবায়ন করতে অস্বীকার করায় এমনটি ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন ও বিস্তৃত চুক্তির বিষয়ে আলোচনার আশা করছেন।
রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন ব্লক-ভিত্তিক না হয়ে পুরো ইউরেশিয়া মহাদেশজুড়ে সমান ও অবিচ্ছেদ্য নিরাপত্তার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.